ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলবো : প্রধানমন্ত্রী

ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলবো : প্রধানমন্ত্রী

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম ১২ মার্চ : প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।’’

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার রাতে রাষ্ট্রপতি ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং একাদশ জাতীয় সংসদের সমাপনী বক্তব্যে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ দেশ। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী পালন করবো মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। আর ২১০০ সালে ডেল্টা প্লান বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর একটি হবে বাংলাদেশ।’’

বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাশিয়া, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনামসহ পৃথিবীর অনেক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে।’’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদের সামরিক বাহিনী প্রয়োজন। তাই সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকভাবে গড়ে তুলছি। ফোর্সেস গোল প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত কুয়েতকে গড়ে তুলতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করেছি অবকাঠামো নির্মাণ, কারিগরী সহায়তায়, দেশটির স্থল সীমানায় মাইন অপসারণের জন্য।’’

তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, ‘‘অন্য কোনো দেশে যুদ্ধ হলে সেখানে আমাদের সেনাবাহিনী সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজন হয়, সেখানে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কাজ করবে। এখানে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। গত ১০ বছরে কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের বৈরিতা হয়নি, সবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।’’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদে দেওয়া ভাষণে সরকারের কার্যক্রম বিষদভাবে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে তা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশকে আরও উন্নত করতে অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক ভূমিকা রাখবে। পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী ট্যানেল নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। আমরা প্রতিটি গ্রামকে শহরের সুবিধা সম্বলিত করে গড়ে তুলবো। নির্বাচনী ইশতেহারে তা তুলে ধরেছি। ৯৩ ভাগ গ্রামে বিদ্যুত সংযোগ দিয়েছি, প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালাবো।’’

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ। নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। গ্রাম পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছি। প্রাইমারি শিক্ষা থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি। ঝরেপড়া শিক্ষার্থী একেবারে নেই।’’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব দূর করতে আওয়ামী লীগ সরকার বেসরকারিখাতকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। বেসরকারি খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।’’

কওমী মাদ্রাসা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘এ ভূখণ্ডে শিক্ষা শুরু কওমী মাদ্রাসা থেকে। দেশে ২০ হাজারের মতো মাদ্রাসা রয়েছে। ২০ লাখের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। এতিম, গরীব, দরিদ্র ঘরের ছেলে-মেয়েরা সেখানে পড়তে যায়। পড়াশোনার একটা জায়গা পাচ্ছে। মাদ্রাসাকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না, সমাজের একটি অংশ। কাউকে আমরা বাদ দিতে পারি না। দীর্ঘ দিন কওমী মাদ্রাসা পাঁচটি বোর্ডে বিভক্ত ছিল। মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোথাও চাকরি করতে পারতো না। এরা দেশেরই সন্তান।’’

তিনি বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার ফলে কওমী মাদ্রাসার নেতাদের সমঝোতায় নিয়ে আসি, দেওবন্দের ক্যারিকুলাম তারা গ্রহণ করেছে। দাওরাইয়ে হাদিসকে আমরা মাস্টার্সের স্বীকৃতি দিয়েছি। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি পার্থিব শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘মাদ্রাসা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের কারখানা এ অভিযোগের সঙ্গে আমি একমত নই। হলি আর্টিজানের ঘটনায় দেখা গেছে, ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা উচ্চবিত্তের সন্তান জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছে। সব কিছু থাকার পরও তারা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছে। শুধু মাদ্রাসাকে দোষারোপ করলে চলবে না।’’

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন