গাজীপুরেই তৈরি হচ্ছে কোরিয়ানসহ বিদেশি ওষুধ

গাজীপুরেই তৈরি হচ্ছে কোরিয়ানসহ বিদেশি ওষুধ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম ১৪ মার্চ : গাজীপুরের হাতিয়াব এলাকার উইলস মার্কেটিং কোম্পানী লিমিটেড নামে একটি ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা মুল্যের ভেজাল ওষধ উদ্বার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই কারখানার চার শ্রমিক-কর্মকর্ত আটক করেছে অভিযানকারী দল।

আটককৃতরা হলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর সদরের রনজিতের ছেলে সুজন (২২), বনগাঁও গ্রামের মনেশ সাংমের ছেলে দ্বিপক রেসা (৪৯), শেরপুরের শ্রীবর্দী থানার হারীয়াকোনা গ্রামের রথিন্দ্র সিরানের ছেলে রাজিউস (২২) ও পাবনা সদরের দিলালপুর গ্রামের মো. আবু তালেবের ছেলে সুলতান মাহমুদ (২৫)।

গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন সরকার বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যলয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে গরু, হাঁস, মুরগি, মাছ উৎপাদনে কৃত্রিম ভিটামিন ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে গোখাদ্য, বিভিন্ন প্রকার টিকা, ভ্যাকসিন, ভিটামিন, প্রোটিন, সিপ্নোসিন, অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিল। এসব ওষুধে ইউএসএ, কোরিয়া, ভারত, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের নাম ব্যবহার করে বাজারে বিক্রিও করা হচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ভেজাল ওষুধ ও ওষুধ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ ও ভেজাল কেমিকেল উদ্ধার করা হয়’।

তিনি আরও জানান, ‘উইলস মার্কেটিং কোম্পানী লিমিটেড নামে ওই কোম্পানি অভিযানের সময় তাদের প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র দেখায়। এতে কোম্পানির ঠিকানা উল্লেখ করা আছে পান্থপথ, ঢাকা। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল দিয়ে তারা গাজীপুরে গরু মোটা-তাজাকরণের ইনজেকশন বানায়। পুরান ঢাকা থেকে বিভিন্ন কেমিক্যালের বোতল এনে ভেজাল ওষুধ তৈরি করে ৫০০ মি.লি. বোতলে ভরে নিজেরাই মেইড ইন কোরিয়া লিখে বাজারজাত করে। এসব ভেজাল ওষুধ ও ভিটামিন জাতীয় উপাদান তাদের নিজস্ব বোতলে বাজারজাত করার সময় কোরিয়া, ইউএসএ, ইন্ডিয়া এসব দেশের লেভেল লাগানো হয়। সিপ্রোসিন জাতীয় ইনজেকশনও তারা উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে। তারা কোরিয়ান কোম্পানি ‘ডো ওয়ান’ এর লেভেল লাগিয়ে কোরিয়ান খাবার হিসেবে সারাদেশের মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারে বিক্রি করে আসছিল। আর এসব কেমিক্যাল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসত বাড়িতে রাখা হয়েছিল’।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকার ওষধ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশ কারখানার মালিককে গ্রেফতার করতে পারেনি।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন