রাউজান ছালামত উল্লাহ বিদ্যালয়ে সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব

রাউজান ছালামত উল্লাহ বিদ্যালয়ে সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম ১৭ মার্চ : ‘এসো স্মৃতির প্রাঙ্গনে মিলি প্রীতির বন্ধনে’ শ্লোগানে মুখরিত স্কুল প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো রাউজান ছালামত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব ও পুনর্মিলনী।

১৬ মার্চ (শনিবার) প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে পতাকা উত্তোলন, বিদ্যালয়সহ সমগ্র রাউজানের ডুকোমেন্টারী প্রদর্শন, কেক কাটা, আলোচনা সভা, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ, র‌্যাফেল ড্র, দেশখ্যাত শিল্পিদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনব্যাপী এই উৎসবে মেতে উঠেন বিদ্যালয়ে সত্তরোর্ধ্ব প্রাক্তণ শিক্ষার্থী হতে শুরু করে বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

উৎসবটি বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মহামিলন মেলায় পরিণত হয়। দেখা যায়, প্রাক্তন, শিক্ষার্থীরা একে অপরে হাসি-কান্নায় আলিঙ্গণে, গল্প-গুজবে, স্মৃতিচারণে, ভালবাসায় ও আবেগে শৈশবে ফিরে গিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলেন।

এই উৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সিলেট মহানগরের অতিঃ পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষের সভাপতিত্বে ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাইফুল ইসরাম চৌধুরী রানার পরিচালনায় সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন চেীধুরী।

মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ‘এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব চলছে। যা ডিজিটাল বিপ্লব হিসাবে পরিচিত। এই বিপ্লবের ছোঁয়ায় সমাজ ব্যবস্থায় এক বিরাট পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার মত প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে না। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বিরাট একটা পরিবর্তন দরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘গ্রেডিং পতিযোগিতায় না গিয়ে এমন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে হবে যাতে সুস্থ মন, সুস্থ দেহ সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।’

বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘বই পড়া আর জিপিএ-৫ পাওয়া একমাত্র জীবন না। জিপিএ-৫ পাওয়া জীবনের স্বপ্ন হতে পারে না। এর চেয়ে আরো বড় কিছু স্বপ্ন দেখতে হবে। একটি দেশের অবকাঠামোগত সকল উন্নয়ন মূল্যহীন হয়ে পড়বে যদি আমরা একজন মানুষ তৈরি করতে না পারি। যে মানুষের মধ্যে, সংস্কৃতি, ভালবাসা, মানবতাবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেম রয়েছে। আর দেশপ্রেমের জ্বলন্ত উদাহরণ রাউজানের সন্তান বিপ্লবী মাস্টার দা সূর্যসেন।’

এছাড়া সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেফায়েত উল্লাহ, পৌর প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ, প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বণিক, উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মির্জা আবু হোসাইন টিপু প্রমুখ।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন