পুলিশ লাইনে ডেকে ব্যবসায়ীকে পেটালেন পুলিশ কর্মকর্তা

পুলিশ লাইনে ডেকে ব্যবসায়ীকে পেটালেন পুলিশ কর্মকর্তা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম ১৪ মে : বগুড়ায় এক ব্যবসায়ীকে পুলিশ লাইন্সে ডেকে নিয়ে লাঠিপেটা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বগুড়ার (শিবগঞ্জ ও সোনাতলা সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার মো. খুদরত-ই-খুদা শুভর বিরুদ্ধে। গত রোববার রাত ১১টার দিকে বগুড়া পুলিশ লাইন্সের অফিসার্স মেসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ওই ব্যবসায়ীর নাম আহমেদ সাব্বির। বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ সড়কে আর্ট লাইন কমিউনিকেশন নামে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। তিনি বগুড়া জেলা পুলিশের নিকট মুদ্রণের কাজসহ ক্রোকারিজসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী সরবরাহ করে আসছিলেন। ঘটনার পর তিনি বেসরকারি একটি ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। ওই রাতে সাব্বির বগুড়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরির আবেদন করলেও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ তা সাধারণ ডায়েরি ভুক্ত করেনি। পরে সোমবার তিনি বগুড়া পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেছেন।

সাব্বির অভিযোগ করেন, সহকারী পুলিশ সুপার খুদরত-ই-খুদার সঙ্গে মগ তৈরির জন্য মৌখিক চুক্তি হয়। সাব্বির ওই মগ এক লাখ ২৪ হাজার টাকায় সরবরাহ নিয়েছিলেন শহরের নিউ মার্কেটের ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদের কাছ থেকে। ইতিমধ্যেই ৯০ হাজার টাকা পরিশোধও করেন। অবশিষ্ট ৩৪ হাজার টাকা শোধ করার জন্য ব্যবসায়ী আজাদ সাব্বিরকে চাপ দেন। পরে সাব্বির সহকারী পুলিশ সুপার খুদরত-ই খুদাকে ফটোবইয়ের বিলের একটা ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করেন। এতে সাব্বিরের ওপর ক্ষিপ্ত হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

সাব্বির বলেন, রোববার রাত সাড়ে দশটার দিকে সহকারী পুলিশ সুপার খুদরত-ই খুদা তাকে ফোন করে পুলিশ লাইন্স অফিসার্স মেসের সামনে আসতে বলেন।

সাব্বিরের অভিযোগ, রাত ১১টার দিকে সহকারী পুলিশ সুপার খুদরত-ই-খুদা অফিসার্স মেসের সামনে উপস্থিত হন। এরপর নিউ মার্কেটের ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদকে ফোনে ডেকে নেন।

পরে সহকারী পুলিশ সুপার তার বডিগার্ডকে ডেকে সাব্বিরকে পেটানোর নির্দেশ দিলে বডিগার্ড তৌকির গাড়ি থেকে লাঠি এনে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। এক পর্যায়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে সহকারী পুলিশ সুপার নিজেই লাঠি কেড়ে নিয়ে পেটাতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে গুরুতর আহত হলে দুজন পুলিশ সদস্যকে ডেকে সহকারী পুলিশ সুপার নির্দেশে রাত ১২টার দিকে তাকে রিকশায় তুলে দেন।

এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার খুদরত-ই-খুদার সাথে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, বিষয়টি তিনি মৌখিক ভাবে জেনেছেন। তাকে কোনো জিডির আবেদন দেয়া হয়নি।

বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, ব্যবসায়ী সাব্বিরকে লিখিতভাবে অভিযোগ করতে বলেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন