এবারও সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে

এবারও সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে

0

নিজস্ব প্রতিবেদক , নগরকন্ঠ.কম ১৪ জুন : খাতওয়ারি ব্যয়ের হিসাবে বাজেটের সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে। আগামী অর্থবছরে বাজেটের ১৫ দশমিক ২ শতাংশই এ খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা- এই দুই মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দের পরিমাণ বাজেটের মাত্র ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেটের মোট আকার ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়েও উন্নয়ন এবং অনুন্নয়ন উভয় খাতে অঙ্কের হিসাবে বরাদ্দ বেড়েছে। কিন্তু শতাংশের হিসাবে চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়েও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমেছে। চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ ব্যয় হয়েছে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ে।

বৃহস্পতিবার সংসদে উপস্থাপিত বাজেটে শিক্ষার জন্য আগামী বছরে বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রণোদনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মনে আশার আলো তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি এবং উন্নয়ন বাজেটে আগের বছরের তুলনায় বরাদ্দ বৃদ্ধির ঘোষণা উল্লেখ করার মতো। এ ছাড়া প্রয়োজন মেটাতে জাপানের একসময়কার সম্রাট মেইজির মতোই বিদেশ থেকে শিক্ষক নিয়ে আসা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিচালনা এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল প্রাথমিক শিক্ষা’ শীর্ষক পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণের ঘোষণাটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এ ছাড়া বাজেট বক্তৃতায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা এসেছে।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের জন্য ২৯ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এটা নতুন বাজেটের ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ ২৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ২৪ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের চেয়ে চলতি অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয় বেশি অর্থ ব্যয় করেছে।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্দেশ্যে শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন, শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ, গুণগত উৎকর্ষ সাধন ও শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উত্তরণকালে গুণগত শিক্ষার জন্য অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতায় দক্ষ শিক্ষকের বিষয়টি উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জাপানের এক সময়কার সম্রাট মেইজির মত প্রয়োজনে বিদেশ থেকে শিক্ষক নিয়ে আসার কথা উল্লেখ করেন। এসব কার্যক্রম আজ থেকে শুরু করার কথাও বলেন তিনি। সব মিলিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন-পুরনো কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য নতুন অর্থবছরে ২৯ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য রাখা হয়েছে। উন্নয়ন বরাদ্দ বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় ৫৪ শতাংশ বেশি বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের জন্য আছে ৭ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা। শিক্ষার আরেক মন্ত্রণালয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষার জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ২৪ হাজার ৪১ কোটি টাকা। এটা এবারের বাজেটের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দ ২০ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। এটা মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ মন্ত্রণালয়ে গত বছরে বাজেট প্রস্তাব ছিল ২২ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে মন্ত্রণালয়টি প্রস্তাবিত সব অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় এ মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে বলা আছে, স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে স্থানীয় ব্যক্তিসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের জন্য আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় স্কুল ফিডিং নীতি প্রণয়ন করা হবে। যার প্রক্রিয়া চলমান আছে। এতে আরও বলা হয়, আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার সক্ষমতা উন্নয়ন সাধনকরত; শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল প্রাথমিক শিক্ষা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। ওই প্রকল্পের আওতায় ৫০৩টি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ ক্লাসরুম তৈরি করা হবে। এ ছাড়া এতে পুরনো অন্যান্য কর্মসূচি চালু করার কথা বলা হয়েছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন