মালিকবিহীন কোনো প্রাণী হত্যা করলে ৬ মাসের জেল

মালিকবিহীন কোনো প্রাণী হত্যা করলে ৬ মাসের জেল

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : মালিকবিহীন কোনো প্রাণী হত্যা করলে ছয় মাসের জেল অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে নতুন প্রাণী কল্যাণ বিল-২০১৯ সংসদে পাশ হয়েছে।

প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ, সদয় আচরণ ও দায়িত্বশীল প্রতিপালনের মাধ্যমে প্রাণী কল্যাণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় বিধান রেখে পাশ করা হয়েছে এই বিল।

মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

রোববার জাতীয় সংসদে বিলটি নিয়ে আলোচনাকালে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও গণফোরামের সংসদ সদস্যরা।

তবে তাদের সেই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এরআগে গত ১০ মার্চ সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

পাস হওয়া বিলে প্রত্যেক প্রাণীর মালিক বা তত্ত্বাবধানকারীর দায়িত্ব যৌক্তিক কারণ ছাড়া ওই প্রাণির প্রতি কল্যাণকর ও মানবিক আচরণ করা এবং নিষ্ঠুর আচরণ থেকে বিরত থাকতে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রাণিকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করানো বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রহার, প্রয়োজনীয় খাদ্য না দেয়া, বসবাসের যথাযথ ব্যবস্থা না করা, উত্ত্যক্ত করা, ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ, আহত প্রাণির চিকিৎসা না করা, অনুমোদন ছাড়া বিনোদন বা ক্রীড়ায় ব্যবহারকে প্রাণির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ হিসাবে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

বিলে পোষা প্রাণির বাণিজ্যিক উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার বিধান রাখা হয়েছে। নিষ্ঠুরতা বা অন্য কোনো কারণে আহত প্রাণীর চিকিৎসা এবং তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এছাড়া বিলে উল্লেখিত বিধান লঙ্ঘনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বিচার ও সুনির্দিষ্ট শাস্তির ব্যবস্থার বিধান করা হয়েছে।

নতুন এই আইনে চলাফেরার সুযোগ না দিয়ে কুকুরকে একটানা ২৪ ঘণ্টা বেঁধে বা আটকে রাখলে তা নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য ছয় মাসের জেলের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

ভেটেরিনারি কাউন্সিল ॥ ১৯৮২ সালের ‘বাংলাদেশ ভেটেরিনারি প্রাকটিশনারস অর্ডিন্যান্স’ বাতিল করে নতুন আইন করতে রবিবার রাতে জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল বিল-২০১৯’ নামে আরো একটি বিল সংসদে পাস হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এরআগে বিরোধী দলীয় সদস্যদের জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। গত ২৮ এপ্রিল সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর তা পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন