বালুর ব্যাগে কি আর থামে যমুনা!

বালুর ব্যাগে কি আর থামে যমুনা!

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : বর্ষার শুরুতেই প্রমত্তা যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিদিন গৃহহীন হচ্ছে যমুনার পূর্ব পাড়ের বাসিন্দারা। এরিমধ্যে নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শতাধিক পাকা ও আধাপাকা বাড়িসহ অনেক স্থাপনা নদীর বুকে চলে গেছে। আরো তিনশ’র বেশী ঘর-বাড়ি নদীতে যাওয়ার শঙ্কায় আছেন নদীর পাড়ের বাসিন্দারা।

ভাঙনের আগে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে এখন বালুর জিওব্যাগ ফেলায় তা কাজে লাগছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। জিওব্যাগ বালুর বদলে মাটি দিয়ে ভরার কারণে সেগুলো নিম্নমান হওয়ায় ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে বলেও মনে করেন তারা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নদীর গ্রাস থেকে এলাকাগুলোকে রক্ষা করতে কাজ চলছে ভালভাবেই। কিছু জিওব্যাগে সমস্যার কথা স্বীকার করে তারা বলছেন, সেগুলো বদলে ভাল মানের ব্যাগই দেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী, গাবসারা ও অর্জুনা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে আগ্রাসী নদীর ভয়ানক রূপ। গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ি, কষ্টাপাড়া ও ভালকুটিয়া এলাকায় কয়েকদিনে শতাধিক ঘর-বাড়ি চলে গেছে যমুনার বুকে। গত এক সপ্তাহের ভাঙনে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া, খানুরবাড়ি ও ভালকুটিয়া গ্রামের এক কিলোমিটার এলাকা এখন নদীতে। তিনটি প্রাইমারি স্কুল, তিনশ বছরের কালীমন্দির, আধা-পাকা ঘরবাড়িসহ শতাধিক স্থাপনা ভাঙনের কবলে রয়েছে।

উপজেলার কষ্টাপাড়া গ্রামের সবুর আলী জানান, ‘যমুনা নদীতে ১৫ দিন ধরে তীব্র ভাঙন শুরু হওয়ার পর স্থানীয় এমপিসহ সরকারি কর্মকর্তারা ভাঙন দেখে গেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেই। তারা শুধু এসে আশ্বাস দিয়ে যান।’

ঈমান বেপারী নামের খানুরবাড়ি গ্রামের আরেকজন জানান, ‘তিন গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে তীব্র ভাঙন শুরু হলেও শুধু ৭৫ মিটার এলাকায় নিম্নমানের জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এতে ভাঙনরোধে কোন কাজেই আসেনি।’

এদিকে ভাঙনরোধে টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড এক কিলোমিটার ভাঙন এলাকার মধ্যে মাত্র ৭৫ মিটার এলাকায় ভাঙনরোধে ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পের অধীন জিওব্যাগ ফালানোর কাজ শুরু করেছে। সেখানে ভর্তি করা জিওব্যাগে ঘাস দেখা গেছে, বোঝা যায় সেগুলো মাটি দিয়ে ভরা, পানিতে গলে যাবে দ্রুতই। যেখানে জিওব্যাগ ফেলানো হচ্ছে তার অদূরে জেগে উঠা চর থেকে মাটি কেটে জিওব্যাগ ভরা হচ্ছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আল আমিন জানান, কিছু কিছু নৌকায় জিওব্যাগে ভিট মাটি পাওয়া গেছে। সেগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মফিদুল ইসলাম মজনু জানান, ‘সঠিকভাবে জিওব্যাগে বালু ভরে ভাঙন এলাকায় ফেলানো হচ্ছে। কিছু কিছু নৌকায় জিওব্যাগে একটু সমস্যা ছিল, সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে কাজের সিডিউলে কি বালু দিয়ে জিওব্যাগ ভর্তি করা হবে সেটা লেখা নেই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে যমুনা নদীর ভাঙনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অর্জূনা ইউনিয়নের কুঠিবয়ড়া এলাকায় গাইড বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে।

টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জিওব্যাগ বালু দিয়ে ভর্তি করে ভাঙন এলাকায় ফেলানোর জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেখানে জিওব্যাগ ফেলানোর কাজ হচ্ছে সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা রয়েছেন। তিনি সর্বক্ষণ দেখাশুনা করছেন।’

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন