মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : বিনা অপরাধে কারাভোগের নয়দিন পর আদালতের নির্দেশে মুক্তি পেলেন সেই কৃষক আব্দুল আজিজ দফাদার (৬১)। মঙ্গলবার বিকেলে শুনানি শেষে যশোরের মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শাহাদত হোসেন তাকে মুক্তির আদেশ দেন। সন্ধ্যায় এ আদেশ যশোর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছালে তৎক্ষণাৎ কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। আবদুল আজিজ দফাদার যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের বাসিন্দা।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়ার জেলার আবু তালেব জানান, নিরপরাধ আব্দুল আজিজকে মুক্তির আদেশ সংক্রান্ত আদালতের রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর দ্রুত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। স্বজনরা জানান, মুক্তির পর পুলিশ প্রহরায় আব্দুল আজিজকে তার গ্রামের বাড়ি চৌগাছার সিংহঝুলিতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
জানা যায়, ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর রাতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে লোহিত মোহন সাহার ছেলে নবকুমার সাহার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর নবকুমার সাহা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন। ওই মামলার চার্জশিটে আসামি করা হয় চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি মাঠপাড়া গ্রামের আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আব্দুল আজিজ কারিগরকে।
চার্জশিটে বয়স উল্লেখ করা হয় ৩০ বছর। ২০১২ সালের ১ মার্চ পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করে। পরে আব্দুল আজিজ ২০১২ সালের ৫ মার্চ জামিনে মুক্তি পেয়ে কাতারে চলে যান। প্রবাসে চলে যাওয়ায় আসামি আব্দুল আজিজ আদালতে গরহাজির থাকেন। ফলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৪ চলতি বছরের ৭ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আবারও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এই পরোয়ানায় গত ৯ ডিসেম্বর রাতে চৌগাছা থানার এএসআই আজাদের নেতৃত্বে পুলিশ প্রকৃত আসামি আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আব্দুল আজিজকে বাদ দিয়ে মৃত আহাদ আলী দফাদারের ছেলে আব্দুল আজিজ দফাদারকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ রিফাত খান রাজীব জানান, প্রকৃত আসামির নাম, বাবার নাম, গ্রাম একই হওয়ায় ভুলবশত পুলিশ আবদুল আজিজকে গ্রেফতার করে। বিষয়টি তাদের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি গত ১৫ ডিসেম্বর আদালতে ভুল স্বীকার ও প্রকৃত ঘটনা জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার প্রকৃত আসামি আব্দুল আজিজের আইনজীবী ছিলেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহানুর আলম শাহিন। তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেলে শুনানি চলাকালে তাকেও আদালতে ডেকে পাঠানো হয় এবং সেখানে তিনি আটক আজিজ যে প্রকৃত আসামি নয় সেটা আদালতকে অবহিত করেন।
উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকে ‘শুধু নামের মিলের কারণে’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
নগরকন্ঠ.কম/এআর