চট্টগ্রামের ‘ট্রাম্পকার্ড’ রানা

চট্টগ্রামের ‘ট্রাম্পকার্ড’ রানা

0

ক্রীড়া ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : তিন বছর আগে ঘরের মাঠে যুব বিশ্বকাপ খেলেছেন। বাঁহাতি পেসার বলে তখনই যুব দলে বেশ কদর ছিল মেহেদী হাসান রানার। বিশ্বকাপের পর অন্য সতীর্থদের মতো ডানা মেলে উড়তে পারেননি এই তরুণ। একের পর এক ইনজুরির থাবায় হারিয়ে যেতে বসেছিলেন চাঁদপুরের ছেলে রানা। ইনজুরি কাটিয়ে ধীরে ধীরে খেলায় ফিরেছেন। বিপিএলের গত দুই আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, সিলেট সিক্সার্সে খেলেছেন।

তবে সেভাবে নজর কাড়তে পারেননি। চলতি বছরের মাঝামাঝি জাতীয় দলের নেটে বোলিং করেন রানা। তার বোলিং মনে ধরে সদ্য সাবেক হওয়া বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টের। যার সুবাদে নেপালে এসএ গেমসে খেলেছেন তিনি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ড্রাফটে দল পাননি রানা। কোনো দলই তার প্রতি আগ্রহ দেখায়নি। পরে রানাকে দলে ভেড়ায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। সেই রানাই এখন চট্টগ্রামের ‘ট্রাম্পকার্ড’ এবং বঙ্গবন্ধু বিপিএলের সবচেয়ে বড়ো চমক।

বিপিএলে দারুণ গতিতে ছুঁটছে চট্টগ্রাম। ছয় ম্যাচের পাঁচটিই জিতেছে তারা। ঘরের মাঠ চট্টগ্রামে এসে জিতেছে টানা তিন ম্যাচ। যেখানে বড়ো অবদান রানার। বিপিএলে চার ম্যাচ খেলে ১২ উইকেট শিকার করেছেন ২২ বছর বয়সি এই পেসার।

যদিও শুধু উইকেট শিকারই নয়, বল হাতেও বেশ কার্যকর রানা। সাগরিকার রানস্বর্গে মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন তিনি। গত ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম ম্যাচে রান উঠেছিল ৪২৬। যেখানে ৪ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন রান। শুক্রবার কুমিল্লা-চট্টগ্রাম ম্যাচে রান উঠেছিল ৪৬০! বিপিএলে এর আগে এত রান উত্সবের ম্যাচ হয়নি। বোলারদের এমন দুর্দিনেও উজ্জ্বল রানা।

তিন ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার ছিল ৩-১-৬-৪। সৌম্য, রাজাপাকশে, সাব্বির ও মালানকে ফিরিয়েছিলেন এই তরুণ। শেষ ওভারে আবু হায়দার রনির তোপে পড়ে ২২ রান দেন তিনি। তারপরও ম্যাচের আবহ বিবেচনায় ২৮ রানে ৪ উইকেট ব্যবধান গড়ে দেওয়া বোলিংই বলতে হবে।

ড্রাফটে দল না পাওয়া রানাকে দলে নেওয়ার চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিল চট্টগ্রাম। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব দেওয়া ইমরুল কায়েস গত শুক্রবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘রানার বিষয়ে আমি আর রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) ভাই একরকম চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম। সে যখন দল পায়নি তখন আমি আর রিয়াদ ভাই দুই জন আলোচনা করে দলে নিয়েছিলাম। প্রথমে কেউ ওকে চিনছিল না। ওকে আসলে একটি ট্রাম্পকার্ড হিসেবে পেয়েছি আমরা। ও নিজের কাজটি অনেক ভালোভাবে করে যাচ্ছে।’

দুই বছর আগে বিপিএলে কুমিল্লা শিবিরে রানাকে পেয়েছিলেন ইমরুল। সেই রানা ও এই রানার মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ইমরুল বলেছেন, ‘আমি এর আগেও ওর সঙ্গে বিপিএল খেলেছিলাম, প্রিমিয়ার লিগ খেলেছিলাম। সেই রানা আর এই রানার পার্থক্য দেখেছি। কারণ ঐ রানার তেমন আত্মবিশ্বাস ছিল না। তবে এখন তার আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি।’

চলমান আসরে বোলিংয়ে চট্টগ্রামের তুরুপের তাস রানা। উইকেট পেতে তাকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করছে দলটি। ইমরুল বলেছেন, ‘আমাদের দলে কিন্তু তেমন স্পিনার নেই উইকেট বের করে দেওয়ার মতো। রানা ভালো করছে তাই ওকে ঘুরিয়ে-ঘুরিয়ে বোলিং করাতে হচ্ছে। যখন একটা ভালো জুটি হচ্ছে তখন রানাকে আবার সেখানে বোলিং করাতে হচ্ছে।’

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন