হতাশায় ভুগেছেন শচিনও

হতাশায় ভুগেছেন শচিনও

0

ক্রীড়া ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : ভারতে তো বটেই, গোটা ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই তিনি অনন্য এক নজীর। আজও তরুণ ক্রিকেটাররা আদর্শ মানেন শচিন রমেশ টেন্ডুলকারকে। যদিও, তার জীবনেও এসেছে বাজে সময়, ভুগেছেন হতাশায়।

ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাত্কারে সেই বাজে সময়েরই স্মৃতিচারণা করেছেন এই কিংবদন্তি। তিনি বলেন, ‘টেনিস এলবোর ইনজুরির সময়টা আমার খুব খারাপ গেছে। এটা এমন একটা ব্যথা যে, ক্রিকেট ব্যাট হাতেও নেওয়া যায় না। এটা কেবল যার হয়েছে কেবল সেই বুঝতে পারে। এটা এমন একটা সময় যখন আপনাকে কোনো ঘরে আটকে রাখলে আপনি সামান্য দরজাটাও খুলতে পারবেন না। পরে আমার কয়েক জন বন্ধুও একই সমস্যায় ভুগেছেন। তাদের অভিজ্ঞতাও একইরকম।’

শচিন জানালেন, তার সময়টা ছিল আরো বেশি শক্ত। তিনি বলেন, ‘আমার ইনজুরিটা খুব বাজে ছিল। যা কিছু করা সম্ভব আমি তার সব কিছুই চেষ্টা করেছি। ইনজেকশন নিয়ে টেস্ট খেলতে নেমেছি। যতক্ষণ উপায় ছিল খেলে গিয়েছি। কিন্তু, একটা সময় অস্ত্রোপচার করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। আমি একদম কোণঠাসা হয়ে গিয়েছিলাম। ফিজিও আর ডাক্তার বন্ধুরা চেষ্টার কোনো কমতি রাখেনি। তবে, মাঠে ফিরতে তো আরো অনেক কিছুই করতে হয়।’

স্মৃতিচারণা করে শচিন বলেন, ঐ সময় তার স্ত্রী ও বন্ধুবান্ধব খুব সমর্থন যুগিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি অস্ত্রোপচারের পর খেয়াল করলাম, আমি একদমই ব্যাট ধরতে পারছি না। খুবই ভেঙে পড়লাম। আমি তখন রাত দুইটায়, কোনোদিন চারটায় বন্ধুদের ডেকে আনতাম। ঘুমাতে পারতাম না, ওদের নিয়ে লং ড্রাইভে চলে যেতাম। বাড়িতে অঞ্জলি (শচিনের স্ত্রী) ও পরিবারের সবাই খুব সময় দিত। ওরা সবাই না থাকলে আমার এই লড়াইটা আরো শক্ত হতো। আমাকে সব সময়ই বোঝানো হতো যে সামনেই ভালো সময় অপেক্ষা করছে।’

একটা ঘটনার কথা খোলাসা করলেন শচিন। বললেন, ‘একদিন বাচ্চাদের সঙ্গে প্লাস্টিক বল দিয়ে খেলতে নামলাম। ব্যাটটাও প্লাস্টিকের। অস্ত্রোপচারের সাড়ে তিন মাস পর সেটাই আমার ব্যাট ধরতে পারা। প্রায় কোনো ডেলিভারিই ব্যাটে লাড়াতে পারছিলাম না।’

শচিন ভেবেছিলেন, সেখানেই বুঝি তার ক্যারিয়ার থেমে যাবে। বললেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, ক্যারিয়ারটা বুঝি শেষ হয়ে গেল। সব সময় ঈশ্বরকে বলতাম, এভাবে যেন ক্যারিয়ারটা থেমে না যায়। আবার যেন মাঠে ফিরতে পারি—সেই প্রার্থনা করতাম। সাড়ে চার মাস পর যখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নাগপুরে ওয়ানডে খেলতে নামলাম, তখনো সেই স্মৃতিটা মাথায় ছিল। ওটা আমি কখনো ভুলবো না। ফিরতে যে পেরেছিলাম, সেজন্য ঈশ্বরের কাছে আমি কৃতজ্ঞ ছিলাম। ওর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার ছিল না।’

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন