সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত যুবলীগের বহিষ্কৃত দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান এখন সস্ত্রীক কলকাতায় অবস্থান করছেন। অভিযোগ আছে চাঁদাবাজি, দরপত্র থেকে কমিশন ও যুবলীগের বিভিন্ন কমিটিতে পদবাণিজ্য করেই গড়েন বিপুল সম্পদ। জুয়া, ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় পালিয়ে যান দেশ থেকে। তার স্ত্রী সুমী রহমান ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে কলকাতার অ্যাপলো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। এখন সস্ত্রীক বাংলাদেশে এসে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের সুযোগ চান তিনি। আত্মসমর্পণের সময় তাকে যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গ্রেফতার বা হয়রানি না করে সেজন্য চেয়েছিলেন হাইকোর্টের নির্দেশনা।
ঐ আবেদনের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেছেন, পলাতক অবস্থায় এ ধরনের আবেদন গ্রহণ করা হলে অন্যরাও হাইকোর্টে এসে এর সুযোগ নেবে। এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ নেই। শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।
দুদকের কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, আইনের দৃষ্টিতে আনিস ও তার স্ত্রী পলাতক। পলাতক অবস্থায় আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নেই। এটা একটা স্বতঃসিদ্ধ সিদ্ধান্ত। আনিসের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার রয়েছে। এ কারণে হাইকোর্টে গ্রেফতার বা হয়রানি না করার আবেদন করা হয়েছিল।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। ঐ অভিযানে গ্রেফতার হন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কয়েক জন প্রভাবশালী নেতা। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে দেশত্যাগ করেন যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আনিস ও তার স্ত্রী সুমী। তাকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু খোঁজ মেলেনি। ইতিমধ্যে ঐ দম্পত্তির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা করেছে দুদক।
নগরকন্ঠ.কম/এআর