রফিকের চোখে টেন্ডুলকারের চেয়েও এগিয়ে লারা

রফিকের চোখে টেন্ডুলকারের চেয়েও এগিয়ে লারা

0

ক্রীড়া ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : ক্রিকেট বিশ্ব যুগে যুগে বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি এবং প্রতিভাবান ক্রিকেটারের দেখা পেয়েছে। নিজেদের অসাধারণ ক্ষমতায়, মায়াবী যাদুতে তাঁরা মুগ্ধ করেছেন অগণিত ক্রিকেট ভক্তদের।

শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে প্রত্যেকেই প্রায় সমান। সর্বকালের সেরা কে? সেই প্রশ্নে এসেছে বিভক্তি। এসেছে অনেক যুক্তি, হয়েছে অনেক বিতর্ক। ব্রায়ান লারা নাকি শচীন টেন্ডুলকার—কে সেরা? প্রশ্নটা নিয়ে বিতর্ক হয় প্রায়শই। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রশ্নটা তোলপাড় তুলে চলেছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত।

সেই আলোচনায় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ছিল সামান্যই। লারা ও টেন্ডুলকারের বিপক্ষে খেলা বাংলাদেশের এমন পাঁচজন বোলারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কে সেরা? কার বিপক্ষে বোলিং করা ছিল বেশি চ্যালেঞ্জিং। দশে কে কাকে কত দেবেন?

রাইজিংবিডি-র পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে উঠে আসছে সবকিছু। আজ প্রথম পর্বে পড়ুন মোহাম্মদ রফিকের অভিজ্ঞতা।

প্রথম অভিজ্ঞতা

লারার সাথে আসলে ঠিক কবে খেলেছি মনে নেই। টেন্ডুলকারেরটা মনে আছে। লারারটা ২০০২-০৩ হতে পারে (আসলে ২০০৩ বিশ্বকাপ। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের ফল হয়নি)। লারার উইকেট পেয়েছিলাম টেস্টে। মনে আছে ওদের দেশে খেলতে গিয়েছিলাম। একটা কাট করতে গিয়ে পাইলটের হাতে (খালেদ মাসুদ পাইলট) ক্যাচ দিয়েছিল। আর টেন্ডুলকারের উইকেট ছিল আমার প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট। শারজাহতে এশিয়া কাপের ম্যাচ ছিল। আমার বলে বোল্ড হয়েছিল টেন্ডুলকার।

কে এগিয়ে?

লারা বা টেন্ডুলকারকে বিচার করা কঠিন। তবে আমি সব সময় দুজনের মধ্যে লারাকেই এগিয়ে রাখি। বোলার হিসেবেও আমি লারার ব্যাটিং উপভোগ করেছি। কিন্তু টেন্ডুলকারের ব্যাটিং তেমন উপভোগ করিনি।

পার্থক্য কোথায়?

দুজন দুই প্রকৃতির খেলোয়াড়। লারা এক গুণের, টেন্ডুলকার আরেক গুণের। টেন্ডুলকার সলিড। লারা অর্থোডক্স।

লারার ক্যারিয়ার যদি হিসেব করি, লারা হচ্ছে ম্যাচ উইনিং খেলোয়াড়। কখন যে ম্যাচ বের করে নেবে, আপনি টের পাবেন না। টেন্ডুলকার হয়তো দেখা যেত সেঞ্চুরি-টেঞ্চুরি মারত কিন্তু দেখা যেত দলের সামগ্রিক ফলাফল ভালো ছিল না। লারা কখনো সেঞ্চুরির চিন্তা করতো না। সব সময় দলকে জেতানোর চিন্তা করতো। সেই জায়গায় দুজনের মধ্যে আমি লারাকে এগিয়ে রাখবে নিরঙ্কুশ ভাবে।

আরেকটা জিনিস, লারা সেট হয়ে আসত ড্রেসিংরুম থেকে। টেন্ডুলকার উইকেটে এসে সময় নিত। লারার মারার চিন্তা থাকলে শুরু থেকেই মারবে। টেন্ডুলকার ওরকম ছিল না। ও সময় নিয়ে খেলতে পছন্দ করত।

কে বেশি চ্যালেঞ্জিং?

লারার কৌশল অন্যরকম। হাই ব্যাকলিফ্ট। এরপর ব্যাট-বলের নিখুঁত রসায়ন। ও কি করবে তা বোঝা মুশকিল ছিল। টেন্ডুলকার কি করতে যাবে তা বোঝা যেত। লারাকে বোলিং করা ছিল কঠিন। কোথায় বল করবো সেটা নিয়ে ছিল চিন্তা। ওর সেরা সময়ে ওকে বোলিং করা ছিল কঠিন।

টেন্ডুলকারের বিষয়টি ছিল ভিন্ন। আমরা বের করে নিতে পারতাম টেন্ডুলকার কোথায় খেলতে চাইতো। সেদিকটা আটকে দিলে ভিন্ন কিছু ট্রাই করতো। সেখানে সফল হতো ঠিকই কিন্ত বুঝতে পারতাম তাকে আটকানো সম্ভব।

কিন্তু লারাকে আপনি যেদিকে আটকাবেন সেদিক দিয়েই আপনাকে খেলে আপনার মনোবল নষ্ট করবে। টেন্ডুলকার সেটা ভুলেও চেষ্টা করতো না। ও প্রচুর সময় নিত। যদি লারা টেন্ডুলকারের মতো সময় নিত দেখা যেত আরও এক-দুই হাজার রান বেশি করতো।

লারা প্রথম বল থেকেই পাওয়ার ক্রিকেট খেলত। সেটা টেস্ট বা ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই। এ ধরনের গুণ টেন্ডুলকারের ছিল না।

পছন্দের উইকেট

লারার উইকেট সব সময়ই কঠিন। ও যদি ইচ্ছা করতো আমি এই বলে মারবো তাহলে ওই বলে মারতো-ই। কোনো শক্তি ছিল না তাকে আটকানোর। আবার যদি ইচ্ছা করতো আমি ডিফেন্স করবো তাহলে কেউ ওর উইকেট নিতে পারত না। যেটা টেন্ডুলকারের ভেতরে ছিল না। সেজন্য লারার উইকেট পাওয়া ছিল বেশি আনন্দের। তবে ওদের দুজনের উইকেট ছিল আরাধ্য। দুজনই কিংবদন্তি। উইকেট পেলে মনে হতো বড় কিছু হয়েছে।

স্মৃতিতে লারা ও টেন্ডুলকার

টেন্ডুলকারের সঙ্গে আমাদের খেলা হয়েছে বেশি। সেদিক থেকে লারার সঙ্গে একটু কম। সে কারণে মেলামেশা টেন্ডুলকারের সঙ্গে বেশি হতো। আলাদা আলাদা ড্রেসিংরুমে থাকতাম। কিন্তু সব সময় দেখতাম টেন্ডুলকার নিজের ব্যাট নিয়ে বসে থাকত। কারো সাথে কথা হলেও ব্যাট হাতে থাকত। এটা খুব ভালো লাগত দেখে। মাঠে টুকটাক কথা হতো। সেগুলো সব ক্রিকেট নিয়েই আলোচনা। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজে…হয় আমরা যেতাম নইলে ওরা আসত। লারার সঙ্গে মাঠে দেখা হলে হাই-হ্যালো হতো, এটাই। পার্টিতে দেখা হলে কথা হতো। আমরা নিজেরাই নিজেদের একটু গুটিয়ে রাখতাম। চিন্তা করতাম ওদের বিরক্ত করার দরকার কি…ওরা ওদের মতো থাকতো।

পরীক্ষার নম্বর যখন ১০

আমি লারাকে ১০-এ ১০ দেব। টেন্ডুলকারকে ৯।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন