ডি ভিলিয়ার্স তত্ত্ব, সাকিবের ভাবনা ও ফেরার চ্যালেঞ্জ

ডি ভিলিয়ার্স তত্ত্ব, সাকিবের ভাবনা ও ফেরার চ্যালেঞ্জ

0

ক্রীড়া ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : ওয়ানডে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে চার কিংবা পাঁচ নম্বরে বেশি ব্যাটিং করেছেন সাকিব আল হাসান। প্রথম ১৭০ ইনিংসের মধ্যে তিন নম্বরে নেমেছিলেন মাত্র দুবার। ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজে তাকে তিনে ফেরানো হয়।

টানা ১০ ইনিংসে তিনে ব্যাটিং করে ফিফটি করেছিলেন চারটি। তামিম ইকবালের সঙ্গে গড়েছেন একাধিক বড় জুটিও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সিরিজ জিততে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ব্যাটসম্যান সাকিব।এরপর তিন ইনিংসে পাঁচ নম্বরে নেমে যেতে হয়েছিল তাকে। সেখানেও করেন একটি ফিফটি।

বিশ্বকাপের ঠিক আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে আবার তিনে ফেরানো হয়েছিল বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে। সেই ধারাবাহিকতা ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপে। তিনে ব্যাটিং করে ৮ ম্যাচে সাকিব করেছিলেন ৬০৬ রান। দুই সেঞ্চুরি ও পাঁচ ফিফটিতে সাকিব নিজেকে নিয়ে যান অন্য উচ্চতায়। তিনে ব্যাটিংয়ে সিদ্ধান্তটা ছিল সাকিবের নিজের। কোচ স্টিভ রোডস শুরুতে তাঁর সিদ্ধান্তকে সমর্থণ করেননি। সতীর্থরাও ছিলেন উদ্বিগ্ন। তবে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা শুরু থেকেই ছিলেন সাকিবের পক্ষে। মাশরাফির ভাষ্য ছিল,‘সাকিবের কি করতে হবে সাকিব সেটা জানে। সেজন্য তার সিদ্ধান্তকেই আমি সমর্থণ করি।’

সাকিবের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আজও চর্চা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞায় থাকা এ ক্রিকেটার সোমবার ডয়েচে ভেলে-তে দেওয়া সাক্ষাতকারে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তবে এবার চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন। জানালেন, ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে আলাপচারিতার পর নিজের ব্যাটিংয়ে রসদ খুঁজে পেয়েছেন।

সাকিব বলেছেন,‘বিশ্বকাপের আগে যখন বিপিএল হলো তখন আমি এবি ডি ভিলিয়ার্সের সাথে কথা বলছিলাম। এমনই সাধারণ কথা হচ্ছিলো। সে সময় ও আমাকে বলে, ওর মনে হয় ও সবসময় পরের দিকে ব্যাটিং করেছে। সে যদি তিনে ব্যাটিং করতো তাহলে দলের জন্য আরও অবদান রাখতে পারত এবং রান করতে পারত। দলের কথা ভেবে ওকে সবসময় চার, পাঁচ বা ছয়ে খেলতে হয়েছে।’

‘ডি ভিলিয়ার্সের তত্ত্ব ছিল মিডল অর্ডারে খেলে সে ৭০-৮০ করছে। এতে দলের লাভ হচ্ছে আবার মাঝে মাঝে কাজে আসছে না। কিন্তু তিনে খেললে ১০০-১২০ করতে পারবে, দলকে জেতাতে পারবে। পরে চাপ নিতে হবে না। চিন্তা থাকতো ২-৩ উইকেট পরে গেলে হাল ধরবো বা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। ওর ক্ষেত্রেও জিনিষগুলো এমন ছিল। ও সে সময় বলছিল, ওপরে খেললে বড় রান করতে পারতাম, পরের ব্যাটসম্যানরা চাপে পড়তো না।’

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারের কথায় নিশ্চিত অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন সাকিব। তবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিজ থেকে।

‘ব্যাপারটা হচ্ছে, আপনি যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেন আপনার নিয়তটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভালোর জন্য নিচ্ছেন না খারাপের জন্য। যদি ভালোর জন্য নেন এবং সবাই এটাকে বিশ্বাস করে, জিনিসটা ভুল হলেও ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ভালো চিন্তা না করে ঠিক সিদ্ধান্ত নিলেও কেউ বিশ্বাস না করলে সেটা ভুল হয়ে যাবে। বিষয়গুলো এমন।’

‘তখন থেকেই আমার এমন চিন্তা ছিল, যেহেতু আমি টি-টোয়েন্টিতে ওপরে ব্যাটিং করেছি, আমি মনে করেছি আমি দলের জন্য আরও অবদান রাখতে পারি ব্যাটিং দিয়ে। যেটা আমি করতে পারছি না (ওয়ানডেতে)। এরপরই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে উপরে ব্যাটিং করবো। এই পজিশনেও আমাদের নির্দিষ্ট কেউ ছিল না, তাই ভাবলাম একটা চেষ্টা করে দেখি।’

‘যেহেতু বিশ্বকাপ ছিল চ্যালেঞ্জটা অনেক বড় ছিল। এমনকি ম্যাচের আগের দিন রাতেও ফোন এসেছে, শিউর? আমি করবো কি করবো না? জিনিসগুলা অনেক সংকটপূর্ণ এবং চাপও বলতে পারেন। আপনার যখন আসল কল আসে এবং জিজ্ঞেস করে করব কি করব না? করাটা ঠিক হবে কিনা, মনে হচ্ছে না ঠিক হবে। সবাই যেভাবে বলেছে বা চিন্তা করেছে আসলে ঠিক হচ্ছে না বা ঠিক হবে না। সবাই যখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকে তখন আপনার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়াটা আরও কঠিন হয়ে যায়। সবাই আপনার সাথে থাকলে, তখন একটা আলাদা বিষয়। আমার জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। তাঁদের কষ্ট, অবদান, ত্যাগ, সবার বিশ্বাস এই সময় অনেক বেশি কাজে এসেছে।’ – যোগ করেন সাকিব।

বিশ্বকাপের পর সাকিব নিজের সাফল্য ধরে রাখেন। সাফল্যের চূঁড়ায় থেকে-ই নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। ২৯ অক্টোবরের পর খেলায় ফিরতে পারবেন সাকিব। যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকেই শুরু করতে চান বাঁহাতি অলরাউন্ডার।

‘খেলায় ফিরতে চাই। কিভাবে এই সময়টা তাড়াতাড়ি যাবে সেটা নিয়েই চিন্তা করি। যেখান থেকে খেলাটা বন্ধ হয়েছে সেখান থেকে আবার যেন শুরু করতে পারি এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং নিজের ওপর নিজের প্রত্যাশা। যেখান থেকেই শেষ করেছি, সেখান থেকেই যেন শুরু করতে পারি। আমার কাছে চ্যালেঞ্জ ওই একটাই আর কোন চ্যালেঞ্জ নাই। যেখানে থেমেছিলাম সেখানেই যেন শুরু করতে পারি।’ – বলেছেন সাকিব।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন