দুর্যোগে ডিজিটাল ও বিকল্প ব্যাংকিং চ্যানেলে ব্র্যাক ব্যাংক

দুর্যোগে ডিজিটাল ও বিকল্প ব্যাংকিং চ্যানেলে ব্র্যাক ব্যাংক

0

অর্থনীতি ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : করোনাকালে গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সেবা দিতে ডিজিটাল এবং বিকল্প ব্যাংকিং চ্যানেলের ওপর জোর দিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।

তহবিল স্থানান্তর ও অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে এমন কার্যক্রম আরো ত্বরান্বিত করেছে। ফলে ব্রাঞ্চে না গিয়েও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও কল সেন্টারের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা নিতে সক্ষম গ্রাহকরা। অন্যদিকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অধিকাংশ কর্মী প্রযুক্তির সহায়তায় ঘরে থেকে কাজ করছেন।

এছাড়া নিয়মিত ইমেইল, এসএমএস এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রাহকদের আপডেট দিচ্ছে ব্যাংকটি। রিলেশনশিপ ম্যানেজাররাও তাদের নিজ নিজ গ্রাহকদের সাথে সংযুক্ত থাকছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, এমন দুর্যোগে ব্যাংকটির পরিষেবা ও ব্যাংকিং প্রোডাক্ট আরও বিস্তৃত হয়েছে।

গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে এরই মধ্যে রিটেইল ও এসএমই ঋণ পরিশোধ এবং ক্রেডিট কার্ডহোল্ডারদের জন্য বিশেষ সুবিধার পাশাপাশি সরকার ঘোষিত স্টিমুলাস প্যাকেজের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি।

সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে জাতীয় দুর্যোগকালে ব্র্যাক ব্যাংক তার সিএসআর তহবিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৫ কোটি টাকা দিয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ৬ হাজার সেট ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) দেওয়া ছাড়াও কর্মীদের বেতন তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্র্যাকের খাদ্য সংকট মোকাবিলা তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনকে ৫০ লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছে ব্যাংকটি।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ব্যাংকিং অন ভ্যালুস এর সদস্য হিসেবে এবং জাতিসংঘের টেকসই লক্ষ্যমাত্রার সাথে মিল রেখে পিপল, প্ল্যানেট ও প্রসপারিটি (সমৃদ্ধি) এই তিনটি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

তিনি বলেন, করোনার এই কঠিন সময়ে আমাদের মূল লক্ষ্য গ্রাহক ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা দেওয়ার জন্য শক্তিশালী অপারেশনাল এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো বজায় রাখা, গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সমস্ত ডিজিটাল এবং বিকল্প ব্যাংকিং চ্যানেল এর সক্ষমতা বাড়ানো এবং সব গ্রাহককে উপযুক্ত সেবা ও সুবিধা দেওয়া।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গ্রাহক ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফেস মাস্ক পরা এবং শাখার প্রবেশদ্বারে ফুট-ট্রেও হ্যান্ডওয়াশ স্টেশন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অফিসের ভেতরে অবস্থানকারী কর্মীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সেবা গ্রহণে সব শাখায় গ্রাহকদের নির্ধারিত আসন এবং দাঁড়ানোর স্থানও চিহ্নিত করে দিয়েছে ব্যাংকটি।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকার ঘোষিত স্টিমুলাস প্যাকেজের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহক পর্যায়ে সহায়তা দেওয়া চেষ্টা চলছে। পোশাক শিল্প ও অন্যান্য খাতগুলির সাথে ব্যাংকটি নিবিড়ভাবে কাজ করছে। কর্পোরেট এবং কমার্শিয়াল গ্রাহকদের ক্ষেত্রে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে পুনর্গঠন এবং পুনঃ অর্থায়নে কাজ করছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটি তার রিটেইল ও এসএমই গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধ তিন মাসের জন্য স্থগিত ও ক্রেডিট কার্ডহোল্ডারদের জন্য তিন মাসের জন্য বিলম্ব ফি মওকুফ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে সুদের হার ৯ শতাংশ করেছে।

সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা সবাই পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে অনেক বেশি সোচ্চার। ৮৫০০ এরও বেশি সদস্যের ব্র্যাক ব্যাংক পরিবার আগে কখনও ডিজিটাল মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলো না। পেশাদার এবং ব্যক্তিগত উভয়ক্ষেত্রেই অগ্রাধিকারগুলির প্রতিফলন ঘটিয়ে আমরা ভবিষ্যতের এক নতুন ‘স্বাভাবিক’ এর জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন