‘কিছুদিন পর আমি থাকবো না, তখন জার্সি থেকে কী লাভ?’

‘কিছুদিন পর আমি থাকবো না, তখন জার্সি থেকে কী লাভ?’

0

ক্রীড়া ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্য- মান্না দে’র কণ্ঠের এই গানে যেন প্রাণের স্ফুরণ ঘটেছে। মহামারি করোনাভাইরাসে পৃথিবী এখন দিশেহারা। আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৪০ লাখে। মৃত্যুর মিছিল ছাড়িয়েছে লাখের কৌঠা। বাংলাদেশেও করোনার পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে দিনকে দিন। সামনে কী আছে, জানে না কেউ।

করোনার এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সময়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অনেক মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অসহায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের দিকে। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক বিখ্যাত খেলোয়াড়রা মানুষের সাহায্যের জন্য নিলামে তুলেছেন প্রিয় ও স্মরনীয় ব্যাট, বল, জার্সি সহ আরো কত কি! এবার সেই তালিকায় নাম লেখাতে চলেছেন বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডির স্বনামধন্য রেফারী এসএম আব্দুল মান্নান।

বাংলাদেশি এই রেফারি নিলামে তুলতে চান কাবাডি বিশ্বকাপে যে জার্সি পরে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন সেই জার্সিটি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ভারতের গুজরাট প্রদেশের আহাম্মেদাবাদে অনুষ্ঠিত ৩য় বিশ্বকাপ কাবাডি প্রতিযোগিতার ৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন মান্নান। এরমধ্যে ওপেনিং ও স্বাগতিক ভারত বনাম ইরানের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচও ছিল।

জার্সি নিলামে তোলা প্রসঙ্গে রেফারী মান্নান বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আমাদের দেশের অসংখ্য গরীব মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, হয়েছে। ক্রিকেটারদের ব্যাট, মোনেম মুন্নার জার্সি ও ফুটবল রেফারী তৈয়ব ভাইয়ের রেফারিং জার্সিও নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। তাই আমিও ভাবলাম, আমার তো বিশ্বকাপ এর মত বড় আসরের খেলা পরিচালনা করা জার্সি আছে। বাসায় এটি এতদিন স্বযত্নেই রাখা আছে। কিছুদিন পর হয়তো আমি থাকবো না। তখন এই জার্সি থেকে কি লাভ? তাই এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যদি জার্সি বিক্রির পুরো অর্থটা অসহায় মানুষের কাজে লাগানো যেত তাহলে খুব ভাল হতো। আশা করি অসহায় মানুষদের সহযোগিতায় নিলামে তোলা আমার এ জার্সিটি কেনার জন্য সমাজের বিত্তবান মহান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসবেন।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ কাবাডি বিশ্বকাপের আসরে বাংলাদেশের রেফারী মান্নান ‘রেফারী অব দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেন।

রেফারী হিসেবে আসার আগে কাবাডি খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন মান্নান। ১৯৮৬ সালে খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি শেষে রেফারী হিসেবে ম্যাচ পরিচালনা করা শুরু হয় মান্নানের। রেফারী মান্নান বিশ্বকাপ কাবাডির মত বড় আসরের ম্যাচ পরিচালনা ছাড়াও ২০০৮ সনে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে এশিয়ান বীচ গেমসে পুরুষ ও মহিলা দলের ফাইনাল সহ ৮টি খেলা পরিচালনা করেন। ২০০৯ সনে ম্যাকাও তে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ইনডোর গেমসে ফাইনাল সহ ৫টি খেলা পরিচালনা করেন।

এছাড়াও ২০১১ তে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ইনডোর গেমসে ফাইনাল সহ ৬টি খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সনে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিয়নে এশিয়ান ইনডোর গেমসে সেমিফাইনাল, ফাইনাল সহ ৯ টি খেলায় রেফারীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়াতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে মোট ১০টি ম্যাচ রেফারী হিসেবে পরিচালনা করেন। ২০১৭ সালে জনপ্রিয় প্রো কাবাডি আসরে ৭টি খেলা পরিচালনা করেন এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সংযু মার্শাল আট চ্যাম্পিয়নশিপে অন্তর্ভুক্ত কাবাডি ডিসিপ্লিনের ছেলে ও মেয়েদের মোট ১১টি খেলা পরিচালনা করেন দেশের এ কাবাডি রেফারী।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন