ফাইনালে বায়ার্ন-পিএসজির যত শক্তি ও দুর্বলতা

ফাইনালে বায়ার্ন-পিএসজির যত শক্তি ও দুর্বলতা

0

ক্রীড়া ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : আগামী ২৩ আগস্ট উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই শক্তিশালী দল বায়ার্ন মিউনিখ ও প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।

অল ফ্রেঞ্চ না হয়ে জার্মানি-ফরাসিতে যে শিরোপার লড়াই হতে তা ধরে রেখেছিল অনেক ফুটবলবোদ্ধা। কেননা কাগজে কলমে লিপজিগ ও লিঁও ওই দুই দল থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল।

তার প্রমাণও মিলেছে মাঠে। গোলের খেলায় পিএসজির কাছে লিপজিগ আর বায়ার্নের কাছে হেরেছে লিঁও।

তবে ফাইনালে বায়ার্ন-পিএসজির মধ্যে কে বেশি ফেভারিট তা নিয়ে তর্কযুদ্ধ চলবে নিশ্চিত।

যদিও সেমিফাইনালের গত দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই পিএসজিকে এগিয়ে রাখতে চাচ্ছেন।

কেননা বুধবার রাতে ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিং ব্যর্থতায় ম্যাচটি হাতছাড়া হয়েছে লিঁওর।

বায়ার্নের কাছে ৩-০ গোলে হারলেও লিঁও বুঝিয়ে দিয়েছে, বায়ার্নের রক্ষণভাগ অনেকটা দুর্বল। তাছাড়া দলটির গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সই ম্যাচটির টার্নিং পয়েন্ট ছিল। বেশ কয়েকবার বায়ার্নকে বাঁচিয়েছেন তিনি। নয়তো ফলাফলটা অন্যরকম হতে পারত।

এদিকে পিএসজির আক্রমণভাগ বেশ শানিত আর দ্রুতগামী। লিঁওর মেম্ফিস ডিপাই, এম্বাকির মতো ফিনিশিংয়ে ব্যর্থ নাও হতে পারেন নেইমার-এমবাপ্পে।

বায়ার্নের দুর্বল রক্ষণ নেইমার-এমবাপ্পেদের সামাল দিতে পারবে কি?

এমন দুশ্চিন্তার বলিরেখার দেখা দিতেই পারে বায়ার্ন সমর্থকদের কপালে।

এক্ষেত্রে রবার্ট লেভানডফস্কি ও সার্জি জিনাব্রির ফর্মের ভরসায় বুক বেঁধেছেন তারা। যদিও তারকা ইমেজ বিচারে পিএসজির দুই ফরোয়ার্ড লেভা ও নাব্রির চেয়ে এগিয়ে।

কিন্তু গোলের হিসাবে নেইমারদের অনেকটাই পেছনে ফেলেছে এই দুই বায়ার্ন তারকা।

ফাইনালের আগ পর্যন্ত নেইমার ও এমবাপ্পে মিলে করেছেন ৮ গোল। এর মধ্যে নেইমারের ৩টি আর এমবাপ্পের ৫টি।

কিন্তু বায়ার্নের জিনাব্রি ফরোয়ার্ড না হয়েও একাই করেছেন ৮ গোল। আর স্ট্রাইকার লেভার ঝুলিতে জমা ১৫ গোল!

অর্থাৎ নেইমার-এমবাপ্পের ৮ গোলের বিপরীতে লেভা-নাব্রির গোলসংখ্যা ২৪! কাঁটায় কাঁটায় তিন গুণ!

এই দুই গোল মেশিনে বিপর্যস্ত হতেও পারে ফরাসিরা। যেভাবে ৮ গোলে নাস্তানাবুদ হয়েছে কাতালানারা।

তাই এ কথা বলাই বাহুল্য যে, রোববার বায়ার্নের বিপক্ষে ফাইনালে লেভা-নাব্রি জুটিকে ঘিরে বাড়তি পরিকল্পনা থাকছে পিএসজির রক্ষণভাগের।

এদিকে বার্সেলোনাকে ৮-২ গোলে হারিয়ে প্রতিপক্ষের মনে কাঁপন ধরিয়েছিল বায়ার্ন, তা এখন অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে অলিম্পিক লিওঁ।

পাল্টা আক্রমণেও যে মিউনিখের শিবির ভেঙে চূরমার করে দেয়া যায়, তা তারা দেখিয়ে দিয়েছে। তাই ২৩ আগস্ট ফাইনালের আগে লিওঁকে দেখে উজ্জীবিত হতেই পারেন নেইমার-এমবাপ্পেরা।

সবমিলিয়ে লিসবনে দুর্দান্ত এক ফাইনালের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন