রফতানি ঋণে বড় ছাড়

রফতানি ঋণে বড় ছাড়

0

অর্থনীতি ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় রফতানি খাতে ঋণ গ্রহণে উদ্যোক্তাদের বড় ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে রফতানি খাতে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট বা প্রাক-জাহাজীকরণ ঋণ পেতে আগের মতো বেশি দলিলপত্র দিতে হবে না।

সহজে প্রাপ্য কয়েকটি দলিল দিয়েই এই ঋণ সুবিধা নেয়া যাবে। এ বিষয়ে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, করোনার প্রভাব মোকাবেলা করে রফতানি খাত যাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিমালা শিথিল করে রফতানিকারকদের ছাড় দিয়েছে। আগের নীতিমালা অনুযায়ী এই ঋণ পেতে আবেদনের সঙ্গে ৯ ধরনের দলিলপত্র জমা দিতে হতো।

এর মধ্যে ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত সনদ বা মঞ্জুরিপত্র, ঋণ বিতরণের বিবরণী, সুদসহ মূল অর্থ পরিশোধের অঙ্গীকারপত্র, রফতানির আদেশের কপি, ঋণপত্রের কমার্শিয়াল ইনভয়েস, বিল অব ল্যান্ডিং, এয়ারওয়ে বিল বা কার্গো রিসিপ্ট, বিল অব এক্সপোর্ট এবং রফতানি পণ্য তৈরি সম্পন্ন করার প্রত্যয়নপত্র। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের চাওয়া সমুদয় দলিলপত্র জমা দিতে হতো।

নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, এখন থেকে এই ঋণ পেতে পাঁচ ধরনের দলিলপত্র দিয়ে আবেদন করতে হবে।

এর মধ্যে ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত সনদ বা মঞ্জুরিপত্র, ঋণ বিতরণের বিবরণী, সুদসহ মূল অর্থ পরিশোধের অঙ্গীকারপত্র, রফতানি আদেশের কপি ও বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের চাওয়া সমুদয় দলিলপত্র জমা দিতে হবে।

আগের মতো এখন আর ঋণপত্রের কমার্শিয়াল ইনভয়েস, বিল অব ল্যান্ডিং, এয়ারওয়ে বিল বা কার্গো রিসিপ্ট, বিল অব এক্সপোর্ট ও রফতানি পণ্য তৈরি সম্পন্ন করার প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে না। কেননা এগুলো সংগ্রহ করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এছাড়া ব্যাংক শুধু কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ঋণ ছাড় করে।

কোনো পণ্য সরেজমিন দেখে হস্তান্তরও করে না। এ কারণে ব্যাংকের পক্ষে এসব দলিলপত্রের সত্যতা যাচাই করা কঠিন। এ কারণে ব্যাংকগুলোর চাহিদার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিমালায় ওইসব ছাড় দিয়েছে।

আগে রফতানির আদেশ বা ঋণপত্রের কপি আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হতো। কিন্তু রফতানি চুক্তির বিপরীতে এই ঋণের জন্য আবেদন করা যেত না। যেহেতু চুক্তির মাধ্যমেও এখন পণ্য রফতানি হচ্ছে, সে কারণে এর বিপরীতেও ঋণের জন্য আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোট রফতানিকারকরা চুক্তির বিপরীতে রফতানি করেন।

আগের নীতিমালা অনুযায়ী এই ঋণ পাওয়ার জন্য আবেদনের তারিখ থেকে আগের ছয় মাস কোনো রফতানি বিল বকেয়া থাকলে এই ঋণ পাওয়া যেত না। এখন এর মেয়াদ বাড়িয়ে দুই বছর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রফতানি খাতে কম সুদে ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে ১৩ এপ্রিল একটি সার্কুলার জারি করে। এ তহবিল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেবে ৩ শতাংশ সুদে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রফতানিকারকদের দেবে ৬ শতাংশ সুদে। ওই সময়ে এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশকিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।

আগের নিয়মে ঋণ নেয়ার ৪ মাসের মধ্যে তা পরিশোধ করার বিধান ছিল। এখন তা বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়েছে।

রফতানিকারকদের স্থানীয় মুদ্রায় কম সুদে ঋণ দেয়ার জন্য এ তহবিল গঠন করা হয়। কাঁচামাল আনতে রফতানি উন্নয়ন তহবিল নামে আরও একটি তহবিল রয়েছে। তা থেকে ২ শতাংশ সুদে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেয়া হয়।

কিন্তু রফতানির পণ্য তৈরির সময় শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধ ও অন্যান্য কাজের জন্য প্যাকিং ক্রেডিট নামে ঋণ নিতে হতো ৯ শতাংশ সুদে। এখন তারা এসব কাজের জন্য ৬ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন