ধুনটে বাঙালির চর কেটে আ. লীগ নেতার মাটি বাণিজ্য

ধুনটে বাঙালির চর কেটে আ. লীগ নেতার মাটি বাণিজ্য

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : বর্ষায় ড্রেজার বসিয়ে চলে বালু উত্তোলন। আর শুস্ক মৌসুমে এক্সক্যাভেটর ও কোদাল দিয়ে কাটা হয় মাটি। কয়েক বছর ধরে বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের পেঁচিবাড়ি গ্রামে বাঙালি নদীর বুকে অবাধে চলছে এমন যজ্ঞ। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো অনুমতি বা ইজারা বন্দোবস্তও নেওয়া হয় না।

বালু ও মাটি কেটে মোটা অংকের বাণিজ্য করছেন স্থানীয় বিলকাজুলী গ্রামের আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা। তার নাম মোহাম্মাদ আলী। তিনি চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। অবাধে যত্রতত্র ও ইচ্ছামতো মাটি-বালু উত্তোলনের ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে অনেক স্থানে নদী ভাঙনের ঝুঁকি থাকছে। প্রকাশ্যে এসব অবৈধ কাজ চললেও নীরব রয়েছেন প্রশাসন।

বাঙালির পানি কমে নদীর পশ্চিম পাশের বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠেছে। এক সপ্তাহ ধরে নদীর তীর ও বুক কেটে মাটি উত্তোলন শুরু করা হয়েছে। মাটি কেটে বিক্রি করছে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প, ইটভাটা আর বসতভিটার জন্য। কোথাও এক্সক্যাভেটর দিয়ে, কোথাও শ্রমিক দিয়ে প্রতিদিন ট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়ে পরিবহন করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি গাড়ি মাটি কমপক্ষে ৭০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। মাটি কাটার ফলে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে আবাদি জমি ও বসতবাড়ি।

স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী, রফিকুল ইসলাম, গোলবার হোসেন ,জাহাঙ্গীর ও অনিল কুমারসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে শুস্ক মৌসুম। চর থেকে মাটি কেটে গর্ত করছে। এখন এর কোনো বিরূপ প্রভাব বোঝা যাবে না। তবে বর্ষা মৌসুমে এই চর পানিতে তলিয়ে যাবে। ওই সময় নদীতে প্রবল বেগে স্রোত বইবে। তখন মাটি কাটার এই গর্তে পানি ঘূর্ণিবর্তের সৃষ্টি হয়ে আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীতে বিলীন হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করেও কোন কাজ হয় না।

উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মাদ আলী বলেন, বাঙালি নদীর চরে ব্যক্তি মালিকানাধিন জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছি। এতে নদী ভাঙনের কোনো আশঙ্কা নেই। আবাদি জমি কিংবা বসতভিটার কোনো ক্ষতি হবে না। তারপরও স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করেছেন। তবে এই মাটি কাটার জন্য প্রশাসনের নিকট থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

ধুনট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল রনী বলেন, বাঙালি নদীর চর থেকে মাটি কেটে বিক্রয়ের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে কেউ একজন চর কেটে মাটি নেওয়ার কথা শুনেছি। দুই একদিনের মধ্যে সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন