মঙ্গলবার, ২২ Jun ২০২১, ০৫:১১ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
কারওয়ান বাজারে ট্রেনের ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত করোনায় স্ত্রীর মৃত্যুর ৩ ঘণ্টা পর চলে গেলেন স্বামীও নারায়ণগঞ্জে লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে পুলিশ চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে যাতে অব্যবস্থাপনা তৈরি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান শিল্পমন্ত্রীর পরিকল্পিত পদক্ষেপেই বাংলাদেশ শীর্ষ এসডিজি বাস্তবায়নকারী দেশের একটি হতে পেরেছে : প্রধানমন্ত্রী ৫ লাখ পুষ্টিবাগান স্থাপন করা হবে: কৃষিমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে সরকারের কাছে বিএনপির দাবি ঢাকায় দূরপাল্লার গাড়ি ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না এদেশের রাজনীতিতে হিংস্রতা আর ষড়যন্ত্রের হোতা বিএনপি : সেতুমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক ছিলেন যারা

এক হাজার কোটি টাকার করোনার টিকা বুকিং, কারা আগে পাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের একটি সভায় বলেছেন, ‘যখনই টিকার অনুমোদন মিলবে, তখনই আমরা পাব।’ তিনি আরো যুক্ত করেছেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা এক হাজার কোটি টাকা দিয়ে টিকার বুকিং দিয়ে রেখেছি।’

কিন্তু দেশে টিকা এলে কাদের আগে দেওয়া হবে? সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুসারে এরই মধ্যে দেশে অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা তৈরি ও টিকা পাওয়ার পর তা আমদানি, সংরক্ষণ ও প্রয়োগের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই এসব নিয়ে কাজ চলছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অধিদপ্তর পর্যন্ত। এমনকি মাঠ পর্যায়েও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে টিকা প্রয়োগের জন্য। তবে এই প্রস্তুতি নিতে গিয়ে জনবল সংকটের আশঙ্কায় পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে প্রথম দিকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আদলে কর্মসূচি ঘোষণা করে টিকা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছিল, সেখানে জনবল সংকটের কারণে এখন তা একযোগে না করে ভাগে ভাগে করার পরিকল্পনা চলছে বলে জানা গেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র থেকে।

অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যদি আগামী মাসে টিকা যায়, তবে তখনই বাংলাদেশেও টিকা ঢুকবে বলে ধারণা দিয়েছেন কেউ কেউ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির পরিচালক ডা. সামসুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ অনুসারে অগ্রাধিকারভিত্তিক যারা টিকা পাবে, তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এমনকি একটা পর্যায়ের কাজে অগ্রগতিও বেশ ভালোই হয়েছে। এখন সেটা উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুসারে প্রথমেই পাবেন ফ্রন্টলাইনার চিকিৎসাকর্মীরা। এর বাইরে পর্যায়ক্রমে থাকবেন অন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্তরা।

অন্যদিকে বেসরকারি একাধিক সূত্র অনুসারে, সরকারের বাইরে বাণিজ্যিকভাবে কোনো কোনো টিকা স্বল্পসংখ্যক হলেও সরকারের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে আগাম দেশে আনার চেষ্টা করছে একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সূত্র মতে, তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শেষ করা টিকাগুলোর মধ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হঠাৎ করেই যেকোনো সময় কোনো না কোনো টিকার অনুমোদন দিয়ে ফেলতে পারে। ফলে বিশ্বব্যাপী এক ধরনের হুলুস্থুল পড়ে যাবে—কার আগে কে টিকা লুফে নিতে পারে সে জন্য। আর সেদিকে নজর রেখে সব দেশেই সরকারি উদ্যোগের বাইরে বাণিজ্যিক পর্যায়ে ভেতরে ভেতরে তৎপরতা চলছে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ওষুধশিল্প পরিচিত থাকায় এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় কিছুটা সুবিধা পাওয়া যেতে পারে বলেও মনে করছে বেসরকারি সূত্রগুলো।

একাধিক বিশেষজ্ঞ কালের কণ্ঠকে বলেন, শুধু তাপমাত্রা ব্যবস্থাপনার অভাবে যদি বাংলাদেশ ফাইজার কিংবা মডার্নার টিকা থেকে বঞ্চিত থাকে, সেটার ব্যর্থতা হবে বাংলাদেশেরই। কারণ সরকার চাইলে ছোট পরিসরে হলেও প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত অবকাঠামো এখনো তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মডার্না বা ফাইজারের প্রযুক্তিগত সহায়তাও নিতে পারে বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে। অন্যান্য দেশও তেমনভাবেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। কারণ যে টিকার কার্যকারিতা যত ভালো হবে, সেই টিকার প্রতিই মানুষের আগ্রহ বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সরকার এখন পর্যন্ত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আনতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, সেটা যথেষ্ট নয়।
নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com