বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন

শর্ত পূরণ করল ১৫ কোম্পানি

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা মেনে বেক্সিমকো লিমিটেডসহ ১৫ তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণ করেছেন। ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণের সময়সীমা শেষ হবে আগামী ১০ ডিসেম্বর। এ সময়ের মধ্যে যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরা ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হবেন, সেসব কোম্পানি পরিচালনায় স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ব্যর্থ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে বোর্ড পুনর্গঠনের কর্ম-পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

এসইসি সূত্রে জানা গেছে, দুই দফা সময় বাড়ানোর পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হবেন, সেসব কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের মধ্য থেকে যাদের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে তাদের পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। আর তাতেও যদি ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার পূরণ না হয়, তাহলে আনুপাতিক হারে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া যেসব কোম্পানিতে শেয়ারহোল্ডার পরিচালক পাওয়া যাবে না, সেখানে একাধিক স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে বোর্ড গঠন করা হবে। তবে এটি কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) হবে নাকি বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) মাধ্যমে পরিচালক পদ পূরণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিত ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে বর্ধিত সময় শেষ না হলেও ১৫ কোম্পানি শর্ত পূরণ করেছে। এ ছাড়া কয়েকটি কোম্পানি চলতি মাসের মধ্যে শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণ করবে বলে এসইসিকে জানিয়েছে। অবশ্য এখনো বেশিরভাগ কোম্পানি উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার হোল্ডিং বাড়াতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ইতিমধ্যে যেসব কোম্পানি শর্ত পূরণ করেছে সেগুলো হলো বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, বারাকা পাওয়ার, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, দি সিটি ব্যাংক, এমারল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ, ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেট্রো স্পিনিং লিমিটেড, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সাউথইস্ট ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ।

এখনো ২৮টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ৩০ শতাংশের নিচে রয়েছে। এর মধ্যে আফতাব অটোমোবাইলস, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, ডেল্টা স্পিনার্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ইনটেক লিমিটেড ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণ করবে বলে এসইসিকে জানিয়েছে। এ ছাড়া ফু-ওয়াং সিরামিকস, অলিম্পিক অ্যাক্সেসরিজ ও তাল্লু স্পিনিংয়ের উদ্যোক্তা-পরিচালকরা শেয়ার কিনে হোল্ডিং ইতিমধ্যেই কিছুটা বাড়িয়েছেন। বিপরীতে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার এ সময়ে উল্টো কমেছে। আর অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স শেয়ার ধারণ করতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে।

তবে বেশিরভাগ কোম্পানি শেয়ার ধারণের শর্ত মানতে পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও ১৩টি কোম্পানির উদোক্তা-পরিচালকরা কোনো উদ্যোগই নেননি। কোম্পানিগুলো হচ্ছে অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস, অগ্নি সিস্টেমস, আলহাজ টেক্সটাইল, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, ফাইন ফুডস, ফু-ওয়াং ফুডস, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস, ইমাম বাটন, আইএসএন লিমিটেড, মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড, স্যালভো কেমিক্যালস ও সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ। এর বাইরে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অবসায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফার্মা এইডস কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, তারা শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণের অবস্থানে নেই। নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি জানিয়েছে, দুজন পরিচালকের কারণে কোম্পানির ব্যাংক হিসাব আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলা রয়েছে।

২০১১ সালে ড. খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বের কমিশন তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপর ৯ বছর পার হলেও ৪৪টি কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালক এসইসির নির্দেশনা পূরণে ব্যর্থ হয়। এমন পরিস্থিতিতে এসইসির নতুন কমিশন গত ২৭ জুলাই ন্যূনতম শেয়ার ধারণে কোম্পানিগুলোকে ৬০ কার্যদিবস সময় বেঁধে দেয়। কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কিনতে সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ আইন থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত ২৭ অক্টোবর এই সময়সীমা শেষ হলেও বেশিরভাগ কোম্পানি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়। এমন পরিস্থিতিতে ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণে ব্যর্থ ৩৬টি কোম্পানি যাতে এসইসির নির্দেশনা পরিপালন করতে পারে সে জন্য নতুন করে আরও ৩০ কার্যদিবস সময় বাড়ায়। এই সময়সীমা ১০ ডিসেম্বর শেষ হবে বলে এসইসি জানিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com