রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৬:১৯ অপরাহ্ন

দেশজুড়ে বাড়ছে সূর্যমুখীর আবাদ : ভোলায় ৩ হাজার কৃষককে প্রণোদনা প্রদান

হলুদ রঙের নান্দনিক একটি ফুল সূর্যমুখী। দেখতে সূর্যের মত এবং সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, তাই ফুলকে সূর্যমুখী বলে। সূর্যমুখী থেকে তৈরি তেলও পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ। বিশ্বেজুড়েই সূর্যমুখী তেলের চাহিদা এখন ব্যাপক। আমাদের দেশেও ক্রমশ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জেলায় বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, সূর্যমুখীর তেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুবই কম এবং হৃদরোগীদের জন্য বেশ কার্যকর। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই। এই তেল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
বাসস জেলা প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখী চাষের চিত্রটুকু তুলে ধরার প্রয়াসে ‘দেশজুড়ে বাড়ছে সূর্যমুখীর আবাদ’ শীর্ষক ধারাবাহিক প্রতিবেদন তুলে ধরা হচ্ছে। আজ থাকছে ভোলা জেলায় সূর্যমুখী চাষের চিত্র-
জেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার থেকে ২০ হেক্টর বেশি জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। ১৫০ হেক্টর জমিতে সূর্জমুখী চাষের টার্গেট থাকলেও হয়েছে ১৭০ হেক্টর জমি। নির্ধারিত জমি থেকে ৩১৫ টন সূর্যমুখী উৎপাদনের টার্গেট গ্রহণ করেছে কৃষি বিভাগ। এছাড়া হেক্টর প্রতি উৎপাদন ধরা হয়েছে ২ দশমিক ১০ টন করে। এদিকে সূর্যমুখী আবাদের জন্য জেলায় ৩ হাজার কৃষককে প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। আর ২’শ কৃষককে করা হয়েছে পূর্ণবাসন। ফলে গতবছরের চাইতে এবছর বেড়েছে আবাদী জমির পরিমাণ।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজউদ্দিন বাসস’কে বলেন, সদরে গতবছরের থেকে এবছর ৫ হেক্টর বেশি জমিত আবাদ হয়েছে সূর্যমুখী। এখানে সাধারণত জানুয়ারির প্রথম থেকে সূর্জমূখীর বীজ রোপন করা হয়। ১১৫ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে কৃষকরা ফলন ঘরে তুলতে পারে। ভোলায় ২টি জাতের সূর্যমুখীর চাষ করা হয়। একটি হলো হাইব্রিড হাইসেন-৩৩ ও অন্যটি কৃষি গবেষণা থেকে উদ্ভাবিত বাড়ি সূর্যমুখী-৩ জাত। এই জাতগুলো লবণাক্ততা ও খরা সহিষ্ণু। তাই এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এই অঞ্চলে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সরকারিভাবে প্রণোদনার জন্য ৩ হাজার কৃষককের মধ্যে প্রত্যেককে এক বিঘা জমির অনুকুলে ২ কেজি উন্নত জাতের বীজ, ডিএপি সার ২০ কেজি ও এমওপি সার ১০ কেজি করে দেয়া হয়েছে। ফলে উৎসাহী হচ্ছে কৃষকরা সূর্যমুখী আবাদে।
উপজেলা সদরের ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর-চন্দ্র প্রসাদ গ্রামের কৃষক আব্দুল গনি বলেন, তিনি এই প্রথম সূর্যমুখীর চাষ করেন। সরকারিভাবে প্রণোদনা পাওয়া তার তেমন একটা খরচ হয়নি। প্রতিটি গাছেই ফুল এসেছে। কিছুদিন পর ফলন ঘরে তুলবেন। কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহায়তা পান বলেও জানান তিনি। পাশবর্তী চরগাজী গ্রামের কৃষক মো. শেখ ফরিদ জানান, তার ক্ষেতেও ভালো ফলন এসেছে। আশা করছেন ভালো দাম পেয়ে লাভবান হবেন।
উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বাসস’কে জানান, জেলায় এবছর ১৫০ টি সূর্যমুখীর প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাধারণত এক কেজি সূর্যমুখী থেকে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম তেল উৎপাদন করা সম্ভব। মোট উৎপাদনকৃত সূর্যমুখী থেকে ১৫৭ টন তেল উৎপাদন হবে বলে জানান তিনি।
জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, জেলার ৭ উপজেলায় সূর্যমুখী আবাদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩০ হেক্টর আবাদ হয়েছে। দৌলতখানে ২০ হেক্টরের বিপরীতে ৩৫ হেক্টর। বোরহানউদ্দিনে ১৫ হেক্টরের বিপরীতে ৪০ হেক্টর। লালমোহনে লক্ষ্যমাত্রা ১০ হেক্টর, আবাদ ১৫ হেক্টর। তজুমদ্দিনে ১০ হেক্টরের বিপরীতে হয়েছে ১০ হেক্টর। চরফ্যাসনে ৭৫ হেক্টরের বিপরীতে ৫০ হেক্টর এবং মনপুরায় ৫ হেক্টরের মধ্যে ৫ হেক্টর আবাদ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মো. এনায়েতউল্লাহ বাসস’কে জানান, সূর্যমুখীর তেল অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। আমরা শরিষার পরেই সূর্যমুখীকে রেখেছি তেলের জন্য। সরকার এর উৎপাদন বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ করায় সারা দেশেই এর ব্যাপক আবাদ হয়েছে এবছর। সূর্যমুখী তেল ছাড়াও বীজ হিসাবে বেশ ভালো দাম পাওয়া যায়। কৃষকদের যে কোন সমস্যা সমাধানে আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com