রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

ট্রানজিট এগিয়ে নিতে বসছে দুই দেশ

নানা আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও বাংলাদেশ-ভারত ট্রানজিট নিয়ে অগ্রগতি একেবারে সামান্য। গত প্রায় দেড় বছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভারতে ট্রানজিটের পণ্য গেছে মাত্র চার একক কনটেইনার। ২০২০ সালের জুলাই মাসে একটি চালান ভারতের হালদিয়া বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে আগরতলা পৌঁছে। সেই পরীক্ষামূলক ট্রানজিট পণ্য যাওয়ার পর আর এগোয়নি।

এখন বিষয়টি পর্যালোচনা করতে আগামী ২০-২১ অক্টোবর আলোচনায় বসছে দুই দেশ। বাংলাদেশের নৌসচিব, চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা সেই বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লি যাচ্ছেন। ভারতের পক্ষে তাঁদের নৌসচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। দুই দেশ আশা করছে, সেই বৈঠকে ট্রানজিট এগিয়ে যাওয়ার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে একমত হবেন তাঁরা। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বৈঠকে নৌ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।

তবে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলছেন, বৈঠকে ট্রানজিট এবং উপকূলীয় রুটে পণ্য পরিবহনে গতি বাড়ানোর বিষয়ে পৃথক দুটি আলোচনা হবে। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে কিভাবে সচল করা যায়, তা নিয়ে দুই দেশ সমাধানসহ নিজেদের মতামত দেবে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য ২০১৮ সালে দুই দেশের সচিব পর্যায়ে চুক্তি হয়। এরপর ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকে এ বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি স্বাক্ষর হয়। নানা জটিলতা পেরিয়ে ২০২০ সালের মার্চে পরীক্ষামূলক পণ্য পরিবহন শুরুর দিন ঠিক হয়, কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সেটি পিছিয়ে জুলাই মাসে শুরু হয়। চুক্তির পর চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ সেটিই ছিল প্রথম।

প্রথম চালানটি ভারতের শ্যামপ্রাসাদ মুখার্জি (সাবেক কলকাতা বন্দর) বন্দর থেকে উপকূলীয় নৌপথে রওনা দিয়ে পণ্যবাহী ‘সেঁজুতি’ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভেড়ে। এরপর পণ্য নামিয়ে জাহাজ থেকে সড়কপথে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের আগরতলা পৌঁছে। সেখান থেকে যায় আসাম ও ত্রিপুরা। পরীক্ষামূলক এই চালান সফল হলে পরবর্তী সময়ে এই রুটে নিয়মিত পণ্য পরিবহন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু আর এগোয়নি।

না এগোনোর পেছনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা-জটিলতা নেই উল্লেখ করে সি কম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলসের এমডি আমিরুল হক বলেন, ‘ভারতের অংশে জটিলতাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে, বিশেষ করে ভারতকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে আলোচনা কিংবা ট্রানজিট উদ্যোগে সুফল আসবে না।’

এদিকে ট্রানজিটে তেমন অগ্রগতি না হলেও বেসরকারি খাতে প্রচুর পণ্য ভারত থেকে নৌপথে আসছে; আবার ফিরতি পথে চট্টগ্রাম থেকেও রপ্তানি হচ্ছে। জানতে চাইলে ‘সেঁজুতি’ জাহাজের মালিক ও এমএসটি গ্রুপের কর্ণধার শেখ শাহিখুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাইয়ের পর আর কোনো ট্রানজিট পণ্য আমরা পাইনি। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপুল পণ্য পরিবহন করেছি আমরা। ইদানিং এই রুটে পণ্য পরিবহন অনেক বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের পাঁচটি জাহাজ মাসে ১০টি ট্রিপ দিচ্ছে এই নৌপথে। ফলে বিপুল পণ্য যেমন পাচ্ছি, তেমনি পণ্যের বৈচিত্র্যও পাচ্ছি। সাশ্রয় এবং লাভজনক বলেই তো ব্যবসায়ীরা এই রুটে পণ্য আনছেন।’

জানা গেছে, জেনারেল অ্যাগ্রিমেন্ট অফ ট্যারিফ অ্যান্ড ট্রেড (গ্যাট) চুক্তি অনুযায়ী, ট্রানজিট বা ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য পরিবহনে সরাসরি শুল্ক আরোপের সুযোগ নেই। তবে দেশের অবকাঠামো ব্যবহার, নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ পণ্য পরিবহন সেবা দিয়ে বিভিন্ন মাসুল আরোপের সুযোগ আছে। বন্দর ও কাস্টমস ব্যবহার করতে দিয়ে সরকার সেই মাসুলই আদায় করবে। চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বলছেন, ‘ট্রানজিট নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি আছে, গতবার সেটার ট্রায়াল রানও সফলভাবে করে ফেলেছি। তখন ছয় ধরনের মাসুল আমরা আদায় করেছি। এখন বেশি পণ্য এলে আমাদের বাড়তি লোকবল নিয়োগ করতে হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com