বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন

২২ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাব্যতা যাচাই করবে বেজা

সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ চলছে। এর মধ্যে ৬৮টি অঞ্চলের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর মধ্য থেকে ২২টির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগামী তিন বছর ধরে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সম্প্রতি প্রকল্পটির বিভাগীয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) থাকা বেশ কয়েকটি বিষয়কে বাদ দিতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে ইপিজেডের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর। কমিশন বলছে, বিদেশ সফরের বিষয়টি এ ধরনের প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বিধায় এটি বাদ দেওয়া যেতে পারে। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল তিন বছরের পরিবর্তে দুই বছর নির্ধারণ করতে হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন সভায় জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেজা দেশের পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বেজার গভর্নিং বোর্ড দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৬৮টি সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

বেজার এক কর্মকর্তা গতকাল নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেকোনো একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে কয়েক হাজার কোটির বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকে। এ জন্য ইপিজেডগুলো এসব বিনিয়োগের জন্য সক্ষম কি না, তার জন্যই এ সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ৭ থেকে ৮টি জোনে এখন সম্ভাব্যতা যাচাই প্রক্রিয়া হবে। অবশিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর জমি অধিগ্রহণ, পানি সরবরাহের নিশ্চয়তা ও পরিবেশের বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন ধরনের স্টাডি ও মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের পর কয়েকটি এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকায় পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন (ইএসআইএ), পুনর্বাসন কর্মপদ্ধতি (আরএপি), জমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা (এলএপি), মাস্টারপ্ল্যান ও পানির সহজলভ্যতা যাচাই সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এ জন্য ৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাব্যতা যাচাই, ৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ইএসআইএ, আরএপি, এলএপি, ৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও ৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের পানির সহজলভ্যতা যাচাই সম্পাদনের জন্য ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি, মাস্টারপ্ল্যান ও ওয়াটার অ্যাভেইল্যাবিলিটি স্টাডি ফর ইকোনমিক জোনস অব বেজা’ নামে একটি সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সমীক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে ভোলা, গোপালগঞ্জ, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাব্যতা যাচাই, ইএসআইএ, আরএপি, এলএপি সম্পন্ন করা হবে এবং নবাবগঞ্জ ইপিজেডের শুধু সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এ ছাড়া, নবাবগঞ্জ, বগুড়া ও নেত্রকোনায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও নবাবগঞ্জ, মহেশখালী বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ধলঘাটা) ও মহেশখালীতে (সোনাদিয়া) পানির সহজলভ্যতা যাচাই করা হবে।

প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল প্রস্তাব করা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এই অর্থের মধ্যে রাজস্ব থেকে সংস্থান করা হবে ৪০ কোটি ২০ লাখ এবং মূলধন থেকে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বেজার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এটি বাস্তবায়নের জন্য সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিনিধি বলেন, প্রস্তাবিত সমীক্ষা প্রকল্পে আরটিকে-টোটাল স্টেশনের (মূলত এটি একটি জরিপ মেশিন) প্রাক্কলিত মূল্য কোন সূত্র, তা উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে।

সভায় দুটি আরটিকে-টোটাল স্টেশনের পরিবর্তে একটি কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্রয় পরিকল্পনার হায়ারিং ভেহিকলের ক্রয়পদ্ধতি ও ধরন নন-কনসালটিং সার্ভিস (এনসিএস) দেখানো হয়েছে। পিপিআর-২০০৮ অনুসারে এ ধরনের কোনো ক্রয়পদ্ধতি না থাকায় এটি ওটিএম পদ্ধতিতে সংশোধন করতে হবে। এ ছাড়া পরিকল্পনা বিভাগের জারি করা পরিপত্রে তিন মাস অন্তর পিএসসি ও পিআইসি সভা আয়োজনের সময়কাল উল্লেখ করতে হবে।

এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি উইংয়ের প্রতিনিধি বলেন, প্রকল্পের আকার অনুযায়ী বাস্তবায়নকাল তিন বছর অতিরিক্ত। এটিকে যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ বলেন, সমীক্ষা প্রকল্প প্রস্তাবে বিভিন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দাখিলকৃত সমীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনাক্রমে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান ও সমীক্ষা প্রতিবেদনগুলোর গুণগতমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের বিষয়টি ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com