সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২০ অপরাহ্ন

এই সম্মান রাষ্ট্র আমাকে দিয়েছে : রোজিনা

৮০ ও ’৯০ দশকের শীর্ষস্থানীয় নায়িকাদের অন্যতম রোজিনা। প্রকৃত নাম রওশন আরা রেণু। দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত এ জনপ্রিয় অভিনেত্রী সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ড কর্তৃক আজীবন সম্মাননা লাভ করেছেন।

দারুণ একটা সময় পার করছেন- কেমন লাগছে আজীবন সম্মাননা পেয়ে? আসলেই কিন্তু তাই। সবই আল্লাহর রহমত। আল্লাহর রহমত ছাড়া কিন্তু কোনো কিছুই ভালো হয় না। সব ইজ্জত দেনেওয়ালা আল্লাহ। তার তরফ থেকেই সব সম্মান আসে। এজন্য আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শোকরিয়া আদায় করি। তারপর আপনি যে বললেন, কেমন লাগল- এর উত্তর হচ্ছে, অবশ্যই এজন্য খুবই ভালো লাগছে আমার। এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি আগেও দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। তবে এবার হলো আমার চলচ্চিত্র জীবনের যে একটা সুদীর্ঘ জার্নি- সেটারই সর্বশেষ পুরস্কার, এটা রাষ্ট্র আমাকে দিয়েছে। এটা যে আমার কী ভালো লাগছে, ‘ভালো লাগছে’ শব্দটি যত সহজভাবে বলা যায়, কিন্তু এই ভালো লাগাটা যে কী রকম এটা তো চোখে দেখা যায় না- তাই বলেও বোঝাতে পারব না কী যে আনন্দ হচ্ছে, কী যে ভালো লাগছে এই সম্মাননা পেয়ে।

এমন আনন্দক্ষণ দিনে কাদের বেশি মনে পড়েছে?

আমি ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম, যখন ছবি দেখতাম দেশের বাড়িতে, তখন ভাবতাম, আমি যদি সিনেমার নায়িকা হতে পারতাম…এরপর তো আমি চলচ্চিত্রে আসলাম, দেখলাম, জয় করলাম। আল্লাহর রহমত, এজন্য দেশের মানুষের ভালোবাসা, আমার ইন্ডাস্ট্রির প্রযোজক, পরিচালক থেকে শুরু করে আমার কো-আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ান, এমনকি টি-বয় পর্যন্ত- তারপর বলব আমার ভাইয়ের সমতুল্য শহীদুল্লাহ তিনিও আমার এই জার্নির পথযাত্রী ছিলেন- তারপর আমার গণমাধ্যমের ভাইয়েরা, তাদের সবাইকেই আমার মনে পড়ছে- যাদের ভালোবাসা ছাড়া আমার এমন অর্জন হতো না। তার সব মিলিয়েই কিন্তু আজকে আমার এই সম্মান।

পুরস্কারটির সঙ্গে যাকে পেলেন- এমন ব্যক্তিকে পাশে পাওয়াও নিশ্চয় আনন্দের?

খসরু ভাই! নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই। উনি এখন দেশে নেই। ফোন দিয়েছিলাম। ফোনটা বন্ধ ছিল। সম্মাননা প্রদানের দিন তিনি ছিলেন না। আমি চেয়েছিলাম দুজন একই সঙ্গে যেন পুরস্কারটি গ্রহণ করতে পারি। পরে খবর নিয়ে জানতে পারি তিনি দেশের বাইরে। উনার এক সন্তান বিদেশে থাকেন। সেখানেই বছরে কয়েকমাস থাকেন। উনি যদি পুরস্কারটি নিজ হাতে নিতেন তাহলে খুবই ভালো লাগত। তিনি একজন ফ্রিডম ফাইটার, একজন অভিনেতা। মুক্তিযুদ্ধ করেছেন দেশের জন্য। মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রথম সিনেমা ‘ওরা ১১ জন’ এর মেইন ক্যারেক্টার। সেজন্য উনাকে আরও বেশি ভালো লাগে। হয়তো তিনি কম ছবিতে অভিনয় করেছেন। তারপরও একটি ছবিতে উনার সঙ্গে আমারও কাজ করার সুযোগ হয়েছে। উনি অনেক ভালো মনের মানুষ। উনার প্রতি আমার অনেক, অনেক শ্রদ্ধা আগেও ছিল এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

‘ফিরে দেখা’র অভিজ্ঞতা কেমন?

আমি কী বলব। সে তো আপনারাই বলবেন। বিভিন্ন হলে গিয়ে যতটুকু বুঝেছি দর্শক সিনেমাটি দেখে বেশ ভালো মুগ্ধ হয়েছে। প্রশংসা করেছেন। কিন্তু আপনারা এ নিয়ে যদি রিভিউ না করেন, শুধু-শুধু একটা নিউজ ছবি দিয়েই দায় সারেন মানুষ ছবিটা সম্পর্কে কী জানবে? যেসব দর্শক দেখেনি তারা একটি সিনেমা সম্পর্কে কীভাবে ধারণা পাবে? এখন গণহারে এত মিডিয়া হচ্ছে কেউই সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা না দেখেই লোকমুখে শুনে একটা কিছু বানিয়ে লিখে দিচ্ছে। এটা তো ঠিক না।

এটা ঠিক যে, একসময় মিডিয়ায় নিয়মিত সিনেমার রিভিউ হতো-

এখন কেন এটা নিয়মিত হয় না? মাগনায় দেখতে না পেলে পয়সা খরচ করে সিনেমা দেখবেন না- রিভিউও করবেন না, এভাবে কি সিনে সাংবাদিকতা হয়? অথচ আগে সব বিনোদন সেকশনেই রিভিউ থাকত। সিনেমা ভালো হোক আর মন্দই হোক রিভিউ না থাকলে দর্শক কী করে বুঝবে কোন সিনেমা কেমন হয়েছে? আপনাদের বিনোদন সেকশনে তো একটা টিম আছে। সেই টিম থেকেও তো কেউ একজন সিনেমাটা দেখে রিভিউ করতে পারেন।

সিনেমা ভালো হলেও নায়ক-নায়িকার নিজস্ব দর্শক না থাকলে ব্যবসা করবে? যেটা বললেন অবশ্যই এখন সেটার অভাব আছে। নায়ক-নায়িকারও নিজস্ব দর্শক থাকতে হবে। এখন শাকিব খানেরই নিজস্ব দর্শক আছে। নায়ক ছাড়াও ক্যারেক্টার আর্টিস্টের ক্ষেত্রেও একই কথা বলতে হয়। এখন সে রকম ক্যারেক্টার আর্টিস্টও নেই, যাদের নিজস্ব দর্শক থাকলে তারাও হলে যেত। আগে যেমন মায়ের চরিত্রে রোজি আপা, আনোয়ারা আপা ছিলেন। যাদের আলাদা দর্শক ছিল। এরপর শাবানা আপাও মায়ের চরিত্রে এলেন। কিংবা বাবার চরিত্রে আনোয়ার হোসেন, শওকত ভাই, প্রবীর ভাই। এরপর আমরাও ক্যারেক্টার আর্টিস্ট হিসেবে আসলাম। পরে শাবনূর, মৌসুমী, পপি, পূর্ণিমারা আসলেন। তাদের মধ্য থেকে অবশ্য ক্যারেক্টার আর্টিস্ট আসেনি। হিরোইনইও তো আসেনি যাদের নিজস্ব দর্শক আছে। এটা খুবই দুঃখজনক যে এক শাকিব খান ছাড়া আর কেউ নেই যার নামের টানে দর্শক সিনেমা দেখবে।

অভিনেত্রীরাও এখন নির্মাণে আসছেন- ভালোও করছেন- এটা তো শুধু এখন থেকেই নয়, আগে থেকেই নারীরা চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে কাজ করে আসছে। নারগিস আক্তার তো আগে থেকেই করছেন। এর আগে সুচন্দা আপা, রোজি আপা করেছেন। আগে হয়তো বেশি ছিল না। এখন অনেকে আসছেন। আরও আসা উচিত। এটা খুব ভালো। নারীরা সব সেক্টরেই এগিয়ে আসছে। সিনেমায় কেন বসে থাকবে।

নতুন একটি সিনেমা বানাবেন বলেছিলেন? বানাব ইনশাআল্লাহ। আমরা তো প্রফেশনাল নির্মাতা না। বললেই তো হলো না। গল্প একটা রেডি করেছি। সিনেমা বানানোও তো চাট্টিখানি কথা নয়। এটার জন্য টাকা লাগে। আর ছবি বানালেই তো হলো না। ছবিও তো চলতে হবে। শুধু ঈদেই দু-একটি ছবি চললেই হবে? অন্যান্য সময়ের সারা বছর তো চলতে হবে। ঈদের দু-একটি ছবি দিয়েই তো বোঝা যাবে না, ছবির বাজার ভালো। যা হোক, সময় সুযোগ হলে অবশ্যই নতুন সিনেমার নির্মাণের কাজে হাত দেব।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com