সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

ন্যূনতম মজুরি হতে পারে সাড়ে ১১-১২ হাজার টাকা

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে পিষ্ট হচ্ছে দেশের পোশাক খাত। গত অক্টোবরে বিদেশি মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় এই খাতের রপ্তানি কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পোশাকের কাঁচামালের দাম বাড়ায় বেড়েছে উৎপাদন খরচও। এসব চাপের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিতে গঠিত হয়েছে বোর্ড।

আগামীকাল মঙ্গলবার বোর্ডের ষষ্ঠ সভায় নির্ধারিত হতে পারে মজুরি। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১১-১২ হাজার নির্ধারিত হতে পারে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। যদিও পোশাক মালিক ও শ্রমিকরা বোর্ডের ওপর আস্থার রাখতে চাচ্ছেন।

জানা যায়, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি পুননির্ধারণের জন্য সাড়ে ছয় মাস ধরে কাজ করছে নিম্নতম মজুরি বোর্ড। ২২ অক্টোবর বোর্ডের চতুর্থ সভায় শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ২০ হাজার ৩৯৩ টাকা ন্যূনতম মজুরি দাবি করে প্রস্তাব দেন। তার বিপরীতে মালিকপক্ষ প্রায় অর্ধেক; অর্থাৎ ১০ হাজার ৪০০ টাকার মজুরি প্রস্তাব দেয়।

পরদিন থেকেই মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। গত ১০ দিন থেকে তৈরি হওয়া আন্দোলন এখন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এরপর গত ১ নভেম্বরের পঞ্চম বৈঠকে মালিকদের পক্ষ থেকে নতুন করে মজুরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। আর মালিকদের নতুন প্রস্তাব দেখেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন কি না তা জানানোর কথা বলছেন শ্রমিক প্রতিনিধি।

গার্মেন্টস মালিকদের একাধিক সংগঠনের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে, নতুন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে মালিকরা মজুরি আরও ৬০০- ১০০০ টাকা বৃদ্ধি করে ১১ থেকে সাড়ে ১১ হাজার টাকা প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সবশেষ এটি সর্বোচ্চ ১২ হাজার পর্যন্ত উঠতে পারে।

তবে শ্রমিক নেতারা বলছেন, মালিকদের প্রস্তাবে বড় পরিবর্তন না আসলে বা ৬ষ্ঠ বৈঠকে মজুরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া না গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হবেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধির মাধ্যমে দেওয়া নতুন প্রস্তাবে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আমরা শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আগ্রহী। তবে সেটা হতে হবে সহনীয় পর্যায়ে।

মজুরি কত নির্ধারিত হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিনিধি একটা প্রস্তাব দিবেন। সেটি যদি শ্রমিক প্রতিনিধি মেনে নেন তাহলে তো ভালো। যদি মেনে না নেন তবে দর কষাকষির মাধ্যমে এটি নির্ধারিত হবে। তবে আগামীকালই যাতে একটি সিদ্ধান্তে আসা যায় সে বিষয়ে আমরা প্রতিনিধিকে বলেছি।

শ্রমিক নেতা ও মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা যেই প্রস্তাব দিয়েছি সেই প্রস্তাবেই অটল আছি। তবে বোর্ডের ৬ষ্ঠ বৈঠকে যদি মালিক পক্ষ শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করে প্রস্তাব দেয় তাহলে আমরা ভেবে দেখব। আর যদি মালিকদের প্রস্তাব মেনে নেওয়ার মতো না হয় বা সিদ্ধান্তে না আসা যায় তাহলে আমরা প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হব। শ্রমিকবান্ধব হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

এর আগে গত ১ নভেম্বর ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের পঞ্চম সভায় বেতনের ক্ষেত্রে সাতটি গ্রেডের পরিবর্তে পাঁচটি গ্রেডে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়। এ ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষই একমত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশের পোশাক খাতে শ্রমিক আন্দোলন দেখা দিলে ওই আন্দোলন থেকে শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন সাধারণ শ্রমিকদের পক্ষে দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা বিবেচনায় এনে মজুরি ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে। আর বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) শ্রমিকদের জীবন-মান মূল্যায়ন করে ন্যূনতম মজুরি ১৭ হাজার ৫৬৫ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পোশাক মালিকদের একটি সংগঠনের শীর্ষ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পোশাক মালিকদের সিদ্ধান্তে বড় পরিবর্তন আসবে। এই সিদ্ধান্ত সিপিডির প্রস্তাবের সমান হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন অতো মজুরি দেওয়া পোশাক মালিকদের পক্ষে সম্ভব নয়। ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার টাকা হতে পারে। তবে সবশেষ শ্রমিকরা মেনে না নিলে তা হয়তো আরেকটু বাড়তে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com