সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

ভারতীয় অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে উঠছে বায়ুদূষণ

কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। বাইরে পা রাখা অস্বস্তিকর। প্রতি নিঃশ্বাসে দূষণ অনুভূত হয়। বছরের পর বছর ধরে চলা এ সমস্যা কেবল নাগরিকদের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর। অর্থনীতিবিদরা জানান, এ পরিবেশ ভারতের উৎপাদন ও বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।

সুইস প্রযুক্তি কোম্পানি আইকিউ এয়ারের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভারতে অবস্থিত। দেশটিতে বায়ুদূষণের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। দূষণের প্রধান উৎস যানবাহন থেকে নির্গমন, কারখানার ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা ও ফসলের মাঠে খড় পোড়ানো।

বছরের এ সময় দিল্লিতে দূষণ আরো খারাপ হয়। কারণ ঠাণ্ডা বাতাস দূষণকণা আটকে রাখে। নভেম্বরে দীপাবলির ছুটির সময় সাধারণত দূষণের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এ সময় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অনেকে আতশবাজি পোড়ায়।

আইকিউ এয়ারের হিসেবে চলতি মাসে বাতাসের মান”বিপজ্জনক”স্তরে পৌঁছেছে। রাজধানীতে বিদ্যালয় বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। উপকূলীয় শহর মুম্বাইয়ের বায়ুর মানও খারাপ। মুম্বাইকে ভারতের আর্থিক রাজধানী বলা হয়। বৃহৎ নির্মাণ প্রকল্পের কারণে এবার এখানে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ন্যাশনাল ইউনিটি অ্যান্ড সিকিউরিটি কাউন্সিলের চেয়ারপারসন মনিকা সূদ বলেন, ‘এটা ঠিক যে বাইরের কাজের কারণে বায়ুদূষণ ঘটে। তবে কল সেন্টারের মতো ঘরে পরিচালিত কাজও এর ক্ষতিকারক প্রভাব এড়াতে পারে না। এ দূষণ”জাতির আর্থিক সুস্থতার জন্য”হুমকি।’

গ্রেটার নয়ডার শারদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক হরি শঙ্কর শ্যাম জানান, বায়ু দূষণ দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো শহরগুলোয় ব্যবসা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ব্যক্তি ও সংস্থা উভয়ের খরচ বাড়িয়ে দেয়। ফলে কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতি, উৎপাদন হ্রাস ও শ্রমশক্তির অপচয় হয়।

তিনি বলেন, ‘‌বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নেন পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করে। দূষিত এলাকায় কেউ অবসর ও ব্যবসায়িক ভ্রমণ করেন না। উচ্চ দূষণের মাত্রার কারণে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, প্রদর্শনী ও অন্যান্য ইভেন্ট আয়োজন হ্রাস পায়।’

ভারত বর্তমানে আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। কয়েকজন খেলোয়াড় এরই মধ্যে বায়ুর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে নয়াদিল্লিতে প্রশিক্ষণ সেশন বাতিল করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অক্টোবরে বলেন যে ভারত ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজনের প্রস্তাব করবে। এজন্য দূষিত শহরগুলোয় বায়ুর মান উন্নত করার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নয়াদিল্লিতে কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কার্যক্রম সীমিত করেছে। বায়ুর মান উন্নত করার জন্য জলকামান ব্যবহার করা হচ্ছে। মুম্বাইয়ে বাতাস পরিষ্কার করার জন্য স্মগ-বন্দুক”ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দিল্লির আশপাশের রাজ্য সরকারকে ফসল পোড়ানো বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এসব প্রচেষ্টা কাজে আসছে না।

যৌথ মূলধনি তহবিল কোম্পানি ফিসিস ক্যাপিটালের স্বত্বাধিকার অঙ্কুর মিত্তাল বলেন, ‘‌খড় ব্যবহার করে জৈব জ্বালানি উৎপাদন করার প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন উদ্যোক্তারা। এটা করা গেলে কৃষকও লাভবান হবেন।’

ভারতের পরিবেশমন্ত্রী গোপাল রাই সম্প্রতি বলেন, ‘‌দিল্লিতে চলতি মাসের শেষের দিকে কৃত্রিম উপায়ে মেঘ জমিয়ে বৃষ্টি নামানো যায় কিনা তা ভেবে দেখা হচ্ছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com