শুক্রবার, ১২ Jul ২০২৪, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন: মার্কিন মুখপাত্র

বাংলাদেশে শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়নের ওপর ‘চলমান দমন-পীড়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। এসময় যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

গতকাল সোমবার (২০ নভেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে অংশ নেন ম্যাথিউ মিলার। এ সময় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও সরকারের অবস্থান নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। বরাবরের মতো ছিল আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গও।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শ্রম অধিকার নীতির আলোকে সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেক্রেটারি অ্যান্থনি ব্লিংকেন জানান, শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘন, তাদের হুমকি বা ভয় দেখালে প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতে পারে। সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আক্তারের কথা উল্লেখ করেন প্রশ্নকর্তা। এমন পরিস্থিতি বর্ণনা করে মিলার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধি আন্দোলনে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাঁচজন পোশাক কর্মী নিহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কি কোনো ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে?

সুনির্দিষ্ট উত্তর না দিয়ে ব্লিংকেনের বিবৃতির উল্লেখ করেন মুখপাত্র। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকার রক্ষা ও প্রচার করতে সারা বিশ্বে সরকার, শ্রমিক, শ্রম সংস্থা, ট্রেড ইউনিয়ন, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে আমরা যুক্ত। গত সপ্তাহে ব্লিংকেন ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন আমরা কীভাবে তা করি। বাংলাদেশ ও বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় এটি আমরা চালিয়ে যাব।

এরপর ব্লিংকেন বিবৃতি থেকে উদ্ধৃত করেন ম্যাথিউ মিলার। বলেন, আমরা যেমন বলেছি, ন্যূনতম মজুরি নিয়ে প্রতিবাদে বাংলাদেশে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সহিংসতার পাশাপাশি বৈধ শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে দেখানোর নিন্দা জানাই। শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়নের ওপর চলমান দমন-পীড়ন নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন।

সঙ্গে যোগ করেন, যেমনটি আমরা আগেই বলেছি, আমাদের নীতি হলো সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে শ্রমিকরা সহিংসতা, প্রতিশোধ বা ভীতি প্রদর্শনের ভয় ছাড়াই সংগঠনের স্বাধীনতা এবং সমষ্টিগত দর কষাকষির অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাপী এ মৌলিক মানবাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে আমরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এরপরের প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে। উপস্থিত সাংবাদিক বলেন, এক তরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনরা। বিরোধীদের ওপর দমন-নিপীড়ন চলছে। বিরোধী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা হত্যা, গণগ্রেফতার ও অপহরণের শিকার হচ্ছে। শাসক দল আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। তাহলে ‘বাংলাদেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন ঠেকাতে’ আপনি কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

প্রশ্নের একটি অংশ উদ্ধৃত করে উত্তরে মিলার বলেন, আপনি ঠিক বলেছেন, আমরা কোনো পক্ষে অবস্থান নিই না। আমরা চাই বাংলাদেশীরা নিজেরাই যা চায়- সেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। বাংলাদেশের জনগণের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে সরকার, বিরোধী দল, সুশীল সমাজ, অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে আমরা যুক্ত থাকব। যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারি।

আরেক প্রশ্নে বলা হয়, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু বাংলাদেশের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের কাছে নিঃশর্ত সংলাপের জন্য চিঠি লিখেছেন। সম্প্রতি তফসিল ঘোষিত হলে ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা জানায়। শুধু বিরোধী দল বিএনপিই বয়কটের ডাক দেয়। এ বয়কটের সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়াবে?

এক্ষেত্রেও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে মিলার জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য থেকে বিরত থাকবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য শুধু শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com