কবরস্থান যেন স্বর্গের বাগান

কবরস্থান যেন স্বর্গের বাগান

0

লাইফস্টাইল ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম ১৫ মার্চ : চার কোনায় বাহারি টাইলস ও পাথরের ওপরে খোদাই করে বসানো হয়েছে নামফলক ও মূতি। মূর্তির পাশেই রয়েছে নানা রঙের দৃষ্টিনন্দন ফুল, সারিবদ্ধভাবে দেয়ালের সঙ্গে লাগানো হয়েছে টাইলস ও চার কোনায় পাথরের টুকরো, খোদাই করে লেখা রয়েছে নাম-ঠিকানা ও পরিচয়। প্রথমে দেখে মনে হতো এটা সাজিয়ে রাখা কোনো বাগান, তবে বাগান নয়।

দর্শনার্থীদের কাছে মনে হতে পারে এটা একটি স্বর্গের বাগানের মতো। এটা আসলে খ্রিস্টান ধর্মীয় বিভিন্ন মানুষের সমাধি। এই কবরস্থান বা সমাধি দেখতে এটাই দৃষ্টিনন্দন যে দূর থেকে দেখলে মনে হবে এ যেন স্বর্গের বাগান। জার্মান স্পেনে দেখা মিলবে এ ধরনের করস্থানের।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন লিখেছিলেন, ‘মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের তরে আমি বাঁচিবারে চাই’– এ কথা যে আমাদের সবারই জানা। সত্যি তো এই সুন্দর পৃথিবীতে ছেড়ে কেউ চলে যেতে চায় না। তবে মানুষের মৃত্যু অবধারিত। প্রত্যেক মানুষ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।

তবে মৃত্যুর কথা প্রথমে মনে পড়লেই আমাদের কবরের কথা মনে পড়ে যায়। অন্ধকার কবরের কথা মনে পড়তেই গা শিউড়ে ওঠে।

মৃত্যুর পরে সব মানুষের ঠিকানা কবর। কিন্তু এই কবরস্থানের কথা শুনে ভয়ে ঘুমাতে পারেন না অনেকে। কবরস্থান বা সমাধির কথা শুনলে আমাদের মতো একটা ভিত কাজ করে। তবে জার্মানির এই কবরস্থান দেখলে এই ভীতি দূর হবে। বাংলাদেশের কবরস্থানগুলো একবারেই ভিন্ন। আমাদের দেশের বেশিরভাগ কবরস্থানগুলোতে চোখে মেলে হাড্ডিগুড্ডি, কবরে গর্ত, অপরিষ্কার জরাজীর্ণ। আমাদের দেশে রাতের বেলা যদি কেউ কবরস্তানে ঘুরে আসতে পারেন তাহলে তাকে সাহসী মানুষ হিসেবেই ধরা হয়।

জার্মানির এই কবরস্থানগুলোতে প্রত্যের পরিবারের লাশগুলো সারিবদ্ধভাবে সমাধি দেয়া হয়। স্বামীর পাশে স্ত্রীর, স্ত্রীর পাশে স্বামীর কবর রয়েছে। মৃত্যুর ব্যবধান এক যুগের বেশি হলেও সমাধি দেয়া হয় সারিবদ্ধভাবেই। প্রত্যেকের কবরে আছে নামফলক ও ফুল।

জার্মানিতে সপ্তাহের শনি ও রোববার এখানে প্রিয়জনদের কবর দেখতে আসেন হাজারো মানুষ। অনেকে আবার প্রতিদিনই আছে। এখানে প্রদীপ জালান, ঝাড়ু দেন ও ফুল দেন। এছাড়া অনেক ফুল গাছে পানি দেন ও বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধিও দেন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

অনুরূপ খবর

0

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন