শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

কুষ্ঠ রোগের বিশেষায়িত ওষুধ তৈরির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৩০ সালের আগেই দেশ থেকে কুষ্ঠ রোগ নির্মূল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা প্রদানে কুষ্ঠ রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ওষুধ তৈরি তৈরি এবং বিনামূল্যে বিতরণ করার জন্য স্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার রাজধানীতে প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘২০৩০ সালের মধ্যে শূন্য কুষ্ঠ উদ্যোগ’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন ২০১৯ উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক ওষুধ কোম্পানি রয়েছে যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানি করে এবং তাদের ওষুধের মান খুবই ভাল।’

তিনি বলেন, ‘তাই আমি তাদের বিশেষায়িত ওষুধ তৈরি করার অনুরোধ জানাতে চাই যা কুষ্ঠ রোগীদের জন্য দরকার। এসব ওষুধ রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করার ব্যবস্থা করুন যা দ্র্রুত আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

শেখ হাসিনা ২০৩০ সালের আগেই কুষ্ঠমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় কুষ্ঠ কার্যক্রম জোরদার করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুষ্ঠ রোগীদের সঙ্গে আচরণ করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী কুষ্ঠ আক্রান্ত লোকদের প্রতি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং নেতিবাচক মনোভাব পরিহার করার প্রযোজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি লোকজনকে বলতে চাই যে, তারা আমাদের সমাজেরই অংশ। তাই, তাদের দূরে ঠেলে দেয়া সঠিক নয়। কোন ব্যক্তির দেহে কুষ্ঠ রোগ শনাক্ত হলে, আপনাদের সহানুভূতির সঙ্গে তার সঙ্গে আচরণ করতে হবে এবং তিনি যাতে সুস্থ্য হয়ে ওঠেন সে লক্ষ্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এটি খুবই জরুরি।’

প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক পর্যায়ে কুষ্ঠ রোগীদের দেহে রোগটি সনাক্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুষ্ঠ রোগের কারণে প্রতিবন্ধী লোকদের উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্মসংস্থানের কোন বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ‘কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চাকুরি থেকে অবশ্যই বাদ দেয়া যাবে না, বরং প্রতিবন্ধী লোকের জন্য একটি অনুকুল কাজের পরিবেশ সৃষ্ঠি করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, উত্তরবঙ্গ ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা বেশি। এই রোগের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আমাদেরকে ওই এলাকাগুলোতে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে এবং কুষ্ঠ রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি আমরা এটা করতে পারি তবে, ২০৩০ সালের মধ্যেই আমরা একটি কুষ্ঠমুক্ত দেশ গড়তে পারব ইনশা আল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সরকারি-বেসরকারি সংস্থাসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাঁর সরকার এই হারকে শূন্যে নামিয়ে আনতে চাইছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ডাব্লিওএইচও গুডউইল অ্যাম্বাসেডর ইওহেই সাসাকাওয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। কুষ্ঠ রোগ ও এর চিকিৎসার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য চিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়।

তথ্যসূত্র : বাসস

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com