আখাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু, বছরে উদ্ধার ৭৮ লাশ

আখাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু, বছরে উদ্ধার ৭৮ লাশ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে রফিকুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের দক্ষিণ আউটার সিগন্যাল এলাকায় নাসিরাবাদ মেইল ট্রেনের নীচে কাটা পড়ে। সে পৌরশহরের মুর্শেদ মিয়ার ছেলে।

পরিবারের বরাত দিয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের দাবি মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবক রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন রেলওয়ে থানা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পূর্বাঞ্চল রেলপথের আখাউড়ায় গত এক বছরে ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার করেছে আখাউড়া রেলওয়ে জিআরপি থানা পুলিশ। উদ্ধারকৃত লাশগুলোর মধ্যে ২০ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষ। তবে তাদের মধ্যে ২৯জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। বেওয়ারিশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের সহযোগিতায় দাফন করা হয় তাদের।

অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ১৭টি ছাড়া বাকি ৬১টির ইউডি মামলা হয়। আখাউড়া রেলওয়ে পুলিশের অপমৃত্যু রেজিস্ট্রার হিসাব ও অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে।

এসব মৃত্যুর কারণ তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, অসাবধানতায় রেললাইন পারাপার, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ, চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা, ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা, চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে সেলফি তোলা, ট্রেনের ছাদে ঘুমিয়ে পড়া, ট্রেন দুর্ঘটনা ও বগির সংযোগস্থলে বসে ভ্রমণ এবং ট্রেন থামার আগে নামার চেষ্টা – এমন ঘটনাই বেশি।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এসব মৃত্যুর মধ্যে ট্রেনে কাটা পড়া ছাড়াও বিভিন্ন ঘটনা রয়েছে। অনেক সময় দুর্বৃত্তরা খুন করে রেললাইনের ওপর লাশ ফেলে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে তা ট্রেনে কাটা বলে প্রচারিত হয়। ট্রেনে ধাক্কা বা নিচে পড়ে এসব দুর্ঘটনার কারণে নিহতদের চেহারা ও দেহ বীভৎস হয়ে যায়। পাশাপাশি তাদের কোনো নাম-পরিচয় পাওয়া যায় না। আবার স্টেশনে ভবঘুরে, ভিক্ষুকসহ ছিন্নমূল মানুষের মৃত্যু হলে তাদের অজ্ঞাতপরিচয় লাশ হিসেবে ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি শ্যামল কান্তি দাস যুগান্তরকে জানান, সাধারণ মানুষ ট্রেন ভ্রমণে সচেতন হলে নিহতের সংখ্যা কমবে। তবে রেলওয়ে পুলিশ জনসচেতনতায় উঠোন বৈঠক ও লিফলেটে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন ওসি।

আখাউড়া রেলওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে আখাউড়া-আশুগঞ্জ ও আখাউড়া-মন্দবাগ এবং আখাউড়া-মুকুন্দপুর ১০০ কিলোমিটার রেলওয়ের ১৫টি স্টেশন এলাকার মধ্যে ট্রেনে কাটাসহ ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ের আখাউড়া জিআরপি পুলিশ। এর মধ্যে সর্বাধিক লাশ উদ্ধার হয় গত বছরের নভেম্বর মাসে। ওই মাসে ২১জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন