শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১০:৪৩ অপরাহ্ন

সু চি: আশা জাগিয়েও হতাশার দিকে যাত্রা

মিয়ানমারের আধুনিক ইতিহাসে অং সান সু চি সব চেয়ে দৃশ্যমান ও একইসঙ্গে বিভাজনকারী রাজনীতিক।

তিনি একদিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন, মানবাধিকার রক্ষার অক্লান্ত সৈনিক এবং গণতন্ত্রপন্থি বলে স্বীকৃত  হয়েছেন, আবার সেই সু চি-কেই দেখা গিয়েছে মিয়ানমারের সেনার সমর্থক হিসাবে, যখন তারা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা করেছে, বিতাড়ন করেছে।

এহেন সু চি সেনার হাতে আটক হয়েছেন। তাঁকে স্টেট কাউন্সিলারের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার সামান্য আগে ১৯৪৫ সালের ১৮ জুন সু চি-র জন্ম। বার্মার স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নায়ক অং সানের মেয়ে। অং সানকে মিয়ানমারে জাতির পিতা বলা হয় এবং তিনি সামরিক বাহিনী তাতমাডোরও প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৪৭ সালে তাঁকে হত্যা করা হয়। তার পরের বছর, ১৯৪৮ সালে বার্মা স্বাধীন হয়।

সু চি বরাবর বলে এসেছেন, দেশের মানুষকে সেবা করা তাঁর কর্তব্য। কিন্তু ১৯৮৮ সালে ৪৩ বছর বয়সে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। ততদিন তিনি শিক্ষাবিদ হিসাবে কাজ করেছেন, তাঁর দুই ছেলেকে বড় করেছেন।

সে সময় ছাত্র আন্দোলন চলছিল, দেশের সমাজবাদী একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে এমন কেউ ছিলেন না, যিনি সব বিরোধীকে একজোট করে শাসকদের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবেন। ছাত্ররা তখন নেতৃত্ব দেয়ার জন্য সু চি-কে অনুরোধ করে এবং তিনিও বিনা দ্বিধায় রাজি হয়ে যান।

১৯৮৮ সালের অগাস্টে সু চি-র রাজনৈতিক উত্থানের শুরু। ইয়াঙ্গনে বিখ্যাত বৌদ্ধমন্দির শ্বেডগন প্যাগোডার সামনে পাঁচ লাখ মানুষের সমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে শুরু হলো সু চির রাজনৈতিক জীবন। সু চি তাঁর বাবার উত্তরাধিকার নিয়ে এগিয়ে গেলেন, বললেন, এই আন্দোলন হলো দেশের স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় সংগ্রাম।

এই বক্তৃতাই সু চি-কে বর্মার সব চেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতায় পরিণত করল। তবে এই আশার কিরণ দীর্ঘস্থায়ী হলো না।

একমাসের মধ্যেই মিয়ানমারের সেনা জনপ্রিয় আন্দোলন বন্ধ করে দিল এবং সরকারের দখল নিয়ে নিল। তারা নতুন করে নির্বাচন এবং বহুদলীয় শাসনের প্রতিশ্রুতি দিল। কয়েক হাজার মানুষ মারা গেলেন। ১৯৮৯ সালে সামরিক সরকার দেশের নাম বদল করে রাখল মিয়ানমার।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com