রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

মেহেরপুর মহিলা কৃষি পাঠাগারের শতভাগ সদস্য স্বাবলম্বী

নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীদের স্বাবলম্বী গড়তে মেহেরপুর কৃষি পাঠাগারের শতভাগ সদস্য জেলা কৃষি বিভাগের আলোচিত মুখ।ওই পাঠাগারে সদস্য সংখ্যা এক হাজার। সদস্যরা ৯০ হেক্টর জমিতে পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে বিভিন্ন রকমের সবজি উৎপাদন করছে। সেই সবজি নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছে শতভাগ সদস্য। গাংনীর বামুন্দি ইউনিয়নের তেরাইল ব্লকে মহিলা কৃষি পাঠাগারের সদস্যদের পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে সফলতাকে মডেল হিসেবে দেখছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। মহিলা কৃষি পাঠাগারের মাধ্যমে সবজি চাষে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি কীটনাশক দেয়া সবজি উৎপাদন বন্ধ হবে। মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমবে। মহিলা কৃষি পাঠাগারের সদস্যরা পোকা-মাকড় দমনের জন্য হলুদ-সাদা, নীল আঠা ফাঁদের ব্যবহারসহ সেক্স ফেরমোন ফাঁদ, জৈব নাইট্রোজেন ব্যবহার করছে। আবাদকৃত ৯০ হেক্টর আবাদের সব জমিই বসত ভিটার পতিত জায়গা।
মহিলা কৃষি পাঠাগারের সদস্যদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বুলেট পাওয়ার কম্পোষ্ট, এক্সক্লুসিভ সুপার কম্পোষ্ট, ট্রাই-কো কম্পোষ্ট, ভার্মি কম্পোষ্ট ইত্যাদি বিভিন্ন রকম পরিবেশ বান্ধব সার উৎপাদন ও ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের সবজি উৎপাদন করানো হচ্ছে। তেরাইল মহিলা কৃষি পাঠাগারের সদস্য সাবিনা, শিউলি, শিলা, রেশমা খাতুনরা অভিন্নসুরে বলেন মহিলা কৃষি পাঠাগার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করে পরিবারের চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি জমিতে উৎপাদিত শাক-সবজি ও ফলমুল প্রতিমাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার বিক্রি করা যায়।
মহিলা কৃষি পাঠাগারের সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তিনি বাড়ির পরিত্যক্ত প্রায় ৭ শতক জমিতে বিভিন্ন ধরণের পরিবেশ বান্ধব সার ব্যবহার করে সবজি উৎপাদন করছেন। নিজের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিমাসে গড়ে ৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করছেন। ক্রেতারা নিজেরা জমি থেকে পছন্দের সবজি নিজহাতে তুলে ওজন করে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে কীটনাশক মুক্ত সবজি চাষে যেহেতু উৎপাদন কম হয় সেই কারণেই প্রতি কেজিতে তিন-চার টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক পিংকি খাতুনও একই মত প্রকাশ করেন। তিনি সারাদেশে মহিলা কৃষি পাঠাগারের মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়নের দাবি তুলেছেন।
মহিলা কৃষি পাঠাগারের উদ্যোক্তা গাংনী উপজেলার উপ-সহকারি কৃষি অফিসার মোঃ বকুল হোসেন জানান, ৪টি মহিলা কৃষি পাঠাগারের ১ হাজার সদস্যদের সপ্তাহে ২ দিন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের নিরাপদ সবজি চাষের দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়েছে। অনেকে জৈব সার উৎপাদন করে সদস্যদের কাছে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। তারা নিজ বাড়িতে অব্যবহৃত জায়গায় রঙিন শাক-সবজি লাউ, করলা, কুমড়াসহ নতুন জাতের ফল জাবাটিকাবা, অড়বড়ই, গোলাপজাম, বার মাসি বাতাবি লেবু, জলপাই সহ বিভিন্ন ফল চাষ করে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত সবজি ও ফল বিক্রয় করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
মেহেরপুর জেলা খামার বাড়ির উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেছেন, মহিলা কৃষি পাঠাগারের বিষয়টি কৃষি বিভাগ গুরুত্বের সাথে দেখছেন। পাঠাগারের শতভাগ সদস্য বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মহিলা পাঠাগার গড়ে মহিলাদের স্বাবলম্বী করার পথ পেয়েছি আমরা।
যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদুল আমিন বলেন- নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে মহিলা কৃষি পাঠাগারের নারীরা স্বনির্ভর হয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com