বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন

ফেলপসের পছন্দের ইভেন্টে উত্তরসূরির বাজিমাত

যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারের কিংবদন্তি জলমানব মাইকেল ফেলপসের উত্তরসূরি ভাবা হয় চেস কেইলুশকে। ২০১৬ অলিম্পিকে যার প্রমাণ দিতে পারেননি ২৩ বছরের তরুণ, রুপা জিতেই থামতে হয়েছিল। চার বছর পর এসে লক্ষ্যটা ছুঁলেন। উত্তরসূরির পছন্দের ইভেন্ট ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলে, যাকে বলা হয় সাঁতারের অলরাউন্ড ইভেন্ট, সেটির স্বর্ণ জিতেছেন। ফেলপসের বিশ্ব ও অলিম্পিক রেকর্ড থেকে বেশ দূরে কেইলুশ। তবুও তার এ সাফল্যেই টোকিও অলিম্পিকে প্রথম স্বর্ণ পদক নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র। ১০০ মিটারের চার স্ট্রোক শেষ করতে ৪:০৯.৪২ সেকেন্ড সময় নিয়েছেন কেইলুশ। ৪:০৩.৮৪ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে এই ইভেন্টের বিশ্বরেকর্ড ও অলিম্পিক রেকর্ড গড়েছিলেন ফেলপস। আরেক আমেরিকান জে লিদারল্যান্ড ৪:১০.২৮ সেকেন্ডে ফিনিশিংয়ে পৌঁছে রুপা জিতেছেন। আর ৪:১০.৩৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্রেন্ডন স্মিথ জিতেছেন ব্রোঞ্জ।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড স্টেটের কাউন্টি বাল্টিমোর। দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির পাশের শহরও। এই বাল্টিমোরের একদম পাশের ছোট শহর বেল এয়ার। এই শহরেই ছোট থেকে বেড়ে উঠেছেন কেইলুশ। গতকাল জাপান সময়ে সকালে যখন তার সাঁতার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে তখন রাত। সেই রাতেই পাশের প্রতিবেশীদের জন্য ওয়াচ পার্টির ব্যবস্থা করেন বাবা-মা মাইক-ক্যাথি কেইলুশ। তাদের পার্টি বিফলে যায়নি। সরাসরিই দেখেছেন ছেলের স্বর্ণ জয়ের সাফল্য। কেইলুশ অবশ্য এক দিনেই এই সাফল্যের জন্য তৈরি হননি। ইনজুরির কারণে ২০১৯ সালে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আগে ২০১৭ সালে সবশেষ ফিনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে দুটি স্বর্ণ জেতেন। ওই আসরেই ফেলপসের একক আধিপত্যের ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে নতুন চ্যাম্পিয়নশিপ রেকর্ড গড়েন চেজ। ৪:০৫.৯০ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে ফেলপসেরই চ্যাম্পিয়নশিপ রেকর্ড ভাঙেন। টোকিও অলিম্পিকে  ৪ সেকেন্ড বেশি সময় নিয়েছেন কিংবদন্তির চেয়ে। তবুও স্বর্ণ জেতায় কষ্ট ভুলেছেন চেস, ‘এটাই আমার কাছে পৃথিবী সমতুল্য। একজন সাঁতারু এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করতে পারে না। আমার সুইমিং ক্যারিয়ারে এটাই শেষ কথা। এর জন্যই আমি সাঁতারু হবার প্রথম দিন শেষে স্বপ্ন দেখছি। আজ সেই স্বপ্ন পূর্ণ হলো।’

কেইলুশের সাফল্যে ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলে বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে থাকে। যার কারণ ছিলেন ফেলপস। অলিম্পিক ইতিহাসের অন্যতম সেরা অ্যাথলেট ২০০৪ ও ২০০৮ অলিম্পিকে রেকর্ড গড়ে এই ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছিলেন। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে রায়ান লোচটে সেরা হন। রিও অলিম্পিকে কেইলুশকে নিয়েই আশা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু জাপানের ওসুকে হাগিনোর কাছে হেরে যান। তবে হাগিনোর দেশে এসেই কেইলুশ আমেরিকান পতাকা ওড়ালেন। চেসকে এমনিতেই ফেলপসের উত্তরসূরি ভাবা হয় না। বাল্টিমোর অ্যাকুয়াটিক সেন্টারে সাবেক কিংবদন্তির কাছেই সাঁতারের কোচিং নিয়েছিলেন। তাই স্বর্ণ জয়ের দিনে ফেলপসের স্মরণ করতে ভুললেন না চেস, ‘ফেলপস আমার বড় ভাইয়ের মতো, যাকে আমি সবসময়ই পাশে পেয়েছি সেই ছোটবেলা থেকে। তার কাছ থেকেই প্রতিটি কঠিন সময়ে ভালো করার তাগিদ বা ধাক্কা যাই বলুন আমি পেয়েছি। এই স্বর্ণের জন্য তাকে ধন্যবাদ দিতেই হবে।’

এমনদিনে ফেলপসও টোকিওর অ্যাকুয়াটিক সেন্টারের এনবিসি বুথে (ঘোষকের স্থান) উপস্থিত ছিলেন। চেসের সাফল্যে হাসছিলেন, শিষ্য বা ছোট ভাইয়ের স্বর্ণপদক নেওয়ার মুহূর্তটি বড় পর্দায় দেখানোর সময় ছবিও তুলে রাখেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com