বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
জুনে এসএসসি, আগস্টে এইচএসসি নিতে চায় বোর্ড দেশে বুস্টার ডোজ পেয়েছেন প্রায় সাড়ে সাত লাখ অনশন ও আন্দোলন ভিন্ন ব্যাপার: জাফর ইকবাল বাংলাদেশ যখন উন্নত দেশ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : সরকারি দল বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা মামলা : মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত ১৭ আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন পেরেরা ফ্রান্সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের নতুন রেকর্ড নেদারল্যান্ডসকে হোয়াইটওয়াশ করলো আফগানিস্তান টিকা আবিষ্কার ও ব্যবহারের অনুমতির আগেই সরকার টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় : প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা নেই : ওবায়দুল কাদের

এ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণ আদায়ে সম্মতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

এ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণ আদায়ে জনতা ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক সাড়া প্রদান করেছে কেন্দ্রিয় ব্যাংক। মূলত কর্মসংস্থানসহ অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রিয় ব্যাংক জনতা ব্যাংকের ঋণ আদায়ের উদ্যোগকে সম্মতি প্রদান করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছে, এর ফলে একদিকে যেমন এ্যাননটেক্স ব্যবসা পরিচালনা করে কয়েক হাজার পরিবারের আয়ের উৎস সচল রাখতে পারবে, পাশাপাশি জনতা ব্যাংকও বিপুল খেলাপির দায় থেকে রক্ষা পাবে।
এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আবদুছ ছালাম আজাদ বাসসকে বলেন, ‘কারখানাগুলো বন্ধ না রেখে ঋন আদায়ে সম্মতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। প্রতিষ্ঠানটি ঋণ পরিশোধে যথেষ্ট আন্তরিক। ঋণগুলো নিয়মিত হলে ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ ও প্রভিশন কমে প্রয়োজনীয় মুলধন সংরক্ষনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সর্বোপরি এ্যাননটেক্স গ্রুপের প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান বহাল থাকবে। নতুন নতুন বিনিয়োগে ব্যাংকের ব্যবসাও সম্প্রসারিত হবে। ফলে ব্যাংকের কাঙ্খিত মুনাফা অর্জণ করতে সক্ষম হব।’
গত মঙ্গলবার জনতা ব্যাংকের উদ্দেশ্যে ইস্যু করা একটি চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, লামিসা স্পিনিং লিমিটেড, জারা ডেনিম লিমিটেড, সিমরান কম্পোজিট লিমিটেড, গ্যালাক্সি সুয়েটার এ্যান্ড ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেডসহ এ্যাননটেক্স গ্রুপভুক্ত ১৭টি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের ঋণ স্থিতি ৩ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকার ঋণসমূহ পুনঃতফসিলকরণের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ডাউন পেমেন্ট বাবদ আদায়কৃত ৭১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবসমূহে জমাকরণের পর পুনঃতফসিল সুবিধাটি কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, ঋণ গ্রহীতা গ্রুপটি ইতোমধ্যে পুনঃতফসিলের জন্য প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট জমা করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণগুলো দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকায় জনতা ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে এ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে এবং তা  পুনঃতফসিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রস্তাবনা পাঠায়। এক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ আদায়, দুদকের ছাড়পত্র ও করোনা মহামারিতে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারির জীবন-জীবিকা বিবেচনায় এনে কিছু শর্তারোপ করে ইতিবাচক সম্মতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে থেকেই ঋণ গ্রহীতা এ্যাননটেক্স ঋণগুলো পরিশোধে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে কাছে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আসছিল। এসব কারণ ছাড়াও বৃহৎ খেলাপী ঋণের অতীত কার্যকলাপ পর্যালোচনায় নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
উল্লেখ্য, হলমার্ক গ্রুপসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ রেখে খেলাপী ঋণ আদায়ে জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, আইনি পদক্ষেপ নিয়েও  হলমার্কের খেলাপী ঋণ আদায় এখনও সম্ভব হয়নি। তাই এ্যাননটেক্সের ঋণ আদায়ে পুনঃতফসিল সমীচিন হয়েছে।
ব্যাংকিংখাতের একজন বিশ্লেষক জানান, বর্তমান বাস্তবতার আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এতে দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে ব্যাংকের আয় বৃদ্ধি, শ্রেণীকৃত ঋণ হ্রাস, শাখার লোকসান কভার করে বড় বড় শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। চলমান কোভিড পরিস্থিতিতে যেখানে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। লক্ষ লক্ষ কর্মজীবী মানুষ চাকুরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছেন, সেখানে নির্ভরশীল পরিবারগুলোর একমাত্র উপার্জনের উৎসস্থল বন্ধ না করে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা চালু রেখে ঋণ আদায়ের সিদ্ধান্ত ব্যাংক ও রপ্তানি খাতে নিঃসন্দেহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জনতা ব্যাংককে পৃথক পৃথকভাবে এ্যাননটেক্স গ্রুপের কার্যকলাপ কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে।
এ্যাননটেক্স ও জনতা ব্যাংক সূত্র জানায়, জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পর গত সাড়ে সাত বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ২৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। ২০১৪ সালে এ্যাননটেক্স গ্রুপ জনতা ব্যাংককে ১৯২ কোটি টাকা পরিশোধ করে। এরপর ২০১৫ সালে ২৩৬ কোটি, ২০১৬ সালে ২৯৬ কোটি, ২০১৭ সালে ৩৪২ কোটি ও ২০১৮ সালে ২৮৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে গ্রুপটি। আর ২০১৯ সালে নানা ৮৬ কোটি এবং ২০২১ সালে পরিশোধ করেছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা।
জনতা ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কোভিড অতিমারির মধ্যে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান ৮৬ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। আরও ২৫ কোটি টাকা জমা দিবে বলে সম্মতি জানিয়েছে। এজন্য ঋণ তদারক ও আদায়ে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের নিয়ে বিশেষ টিম গঠন করেছে। কঠোর নজরদারির মাধ্যমে ঋণ আদায়ে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সতর্ক থেকে ঋণের তথ্য দফায় দফায় হালনাগাদ রাখছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com