শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:২১ অপরাহ্ন

জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ এ শুষ্ক মৌসুমে শেষ করতে হবে : সমন্বয় সভায় চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রাম নগরীতে যেকোন উন্নয়ন কাজ করতে হলে চসিকের সাথে সমন্বয় করে করতে হবে। জলাবদ্ধতা নিয়ে যে সংকট এখন বিদ্ধমান তা এই শুকনো মৌসুমে শেষ করতে হবে। ১৮ টি খালে যে কাজগুলো ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা অবগত করেছে তা সম্পূর্ণভাবে পানি চলাচলের উপযোগী করতে হবে।
আজ রোববার সকালে টাইগারপাসস্থ চসিক অস্থায়ী কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলবদ্ধতা সংক্রান্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মেয়র বলেন, নগরীর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হলো অবৈধভাবে পাহাড় কাটা এবং খাল, নালা-নর্দমায় বর্জ্য ফেলা। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কর্ণফুলী নদী যেভাবে ভরাট হয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে পুরো বাংলাদেশ অচল হয়ে যাওয়া। তাই এখন থেকেই এ ব্যাপারে সর্তকতার সাথে ব্যবস্থা নেয়া আজ সময়ের দাবি হয়ে দঁাঁড়িয়েছে।
মেয়র আরো বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য যে ৩৬ টি খালে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ হচ্ছে তার বাইরে যে ২১ টি খাল রয়েছে তার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে তাতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে জলাবদ্ধতা সম্পূর্ণ নিরসনে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন, বে-টার্মিনালের নির্মাণের যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তাতে নগরীর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। চসিক নগরীতে যে সড়কগুলো নির্মাণ করছে তা দিয়ে ৮-১০ টনের বেশি পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করার উপযোগী নয়। তবে বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষের ৩০-৪০ টনের গাড়ি চলাচল করছে। এতে করে সড়কসমূহের বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি এ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান।
তিনি অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা-প্রবণ চকবাজার, বাকলিয়া, শুলকবহর, চান্দগাঁও, বহদ্দারহাটসহ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে এসব স্থানে অবস্থিত খালসমূহের উন্নয়ন কাজ এই শুকনো মৌসুমের মধ্যে শেষ করার প্রয়োজন বলে মনে করেন। তিনি আরো বলেন, জনদুর্ভোগ লাঘবে যে কাজগুলো করা আবশ্যিক সেগুলো সম্পন্ন করতে সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই, যথাযথ কর্তৃপক্ষই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব বা দীর্ঘসূত্রিতার কোন অবকাশ নেই। তিনি জানান, ইতিমধ্যে ছোট খাল নালা-নর্দমার পরিচ্ছন্নতার কাজ চসিক শুরু করেছে। তিনি সিডিএ কর্তৃপক্ষকে প্রকল্প-বহির্ভূত খাল, নালাসমূহের তালিকা চসিককে হস্তান্তর করার জন্য অনুরোধ জানান।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহুরুল আলম দোভাষ বলেন, বন্দর সচল রেখে সকল উন্নয়ন কাজ করতে হবে। তিনি কর্ণফুলী রক্ষায় পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি ছোট-খাট যে ড্রেনগুলোর কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে তা চসিককে বুঝে নিতে অনুরোধ জানান। এছাড়া যে স্লুইস গেটগুলো চউক ইতিমধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন করেছে তা পরিচালনার দায়িত্ব চসিককে গ্রহণ করার নিমিত্তে জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানান। আইসিডি স্থাপনে নগরীর অন্তত ২০ কি.মি. দূরত্ব বজায় রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে সদয় দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান।
মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থার প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মো. শাহ আলী বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুকনো মৌসুমের মধ্যে নগরীর ১৮-২০ টি খালের কাজ সম্পূর্ণরূপে শেষ হবে। ৪২ টি সিরট্রিপ স্থাপনের কাজ চলছে। সব ঝুঁকিপূর্ণ ড্রেনের ওপর স্ল্যাব করা হবে। উন্মুক্ত খালগুলোতে ২ ফুট উচ্চতার রেলিং করা হবে। তিনি রাজাখালি, রুবি সিমেন্ট, রামপুর ও ত্রিপুরা খালের কাজ এই বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে জানান।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান খান বলেন, কর্ণফুলী নদীর রক্ষণাবেক্ষণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। নদীর একটি ব্যাঙ্ক লাইন থাকে, এই ব্যাঙ্ক লাইন মেনে চলতে না পারলে নদী নাব্যতা হারায় এবং তার নিজস্ব গতিপথ হারিয়ে ফেলে। কর্ণফুলী নদীর সাথে নগরীর ১৪ টি গুরুত্বপূর্ণ খালের সংযোগ রয়েছে। এই খালগুলো দিয়ে বর্জ্য পতিত হয়ে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তিনি বে-টার্মিনাল নির্মাণের আগে সকল সেবা সংস্থার সাথে মতামত গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শিবেন্দু খাস্তগীর বলেন, বে-টার্মিনাল নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনে যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। পাহাড় কাটার কারণে কর্ণফুলী ও হালদা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৬ শ ২০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। তিনি এই কাজগুলো বাস্তবায়নে চসিকসহ সেবা সংস্থাগুলোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার পয়োঃনিষ্কাশন প্রকল্প ও রোড কাটিংয়ের কাজ সমন্বয় করতে একজন প্রকৌশলীকে লিয়াজোঁ করার দায়িত্ব অর্পন করা হচ্ছে বলে জানান।
সিএমপি’র উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. তারেক আহম্মেদ বলেন, উন্নয়ন কাজের জন্য রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াসা যে রাস্তাগুলো কর্তন করে সে বিষয়ে পুলিশ আগেভাগে অবগত নয় বলে যান চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে বেগ পেতে হয়। তিনি রাস্তা কর্তন বিষয়ে চসিক যে অনুমতিপত্র প্রদান করে তার একটি অনুলিপি ট্রাফিক বিভাগ বরাবরে প্রেরণ করতে অনুরোধ জানান।
চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলমের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন চসিক সচিব খালেদ মাহমুদ, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, চউক সচিব মো. আনোয়ার পাশা, প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামছ, বন্দরের সিনিয়র হাইড্রোগ্রাফার মো. নাছির উদ্দিন, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি রায়হান মাহবুব, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক। উপস্থিত ছিলেন মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম, মনিরুল হুদা, আবু ছালেহ, সুদীপ বসাক, নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ, ফরহাদুল আলম, রাজীব দাশ, ও অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর চৌধুরী।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com