বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন

রাজনীতির খেলার মাঠে আমরা প্রস্তুত আছি: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘খেলা হবে, তৈরি আছেন তো? ১০ ডিসেম্বর খেলা হবে। আগামী নির্বাচনে খেলা হবে। আন্দোলনে খেলা হবে। বিএনপি মিটিং করুক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, এটা আমরা চাই।

এ জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছাত্রলীগের সম্মেলন এগিয়ে ৬ তারিখে এনেছি। মারামারি, পাল্টাপাল্টি, কোনো বাধা-বিপত্তি নয়। আপনারা আগুন আর লাঠি নিয়ে এলে খেলা হবে। আপনারা আগুন আর লাঠি নিয়ে খেলা করবেন আর আমাদের নেতারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ চুষবেন, এটা হবে না। রাজনীতির খেলার মাঠে আমরা প্রস্তুত আছি। ’

ওবায়দুল কাদের গতকাল সোমবার বিকেলে জামালপুর জিলা স্কুল মাঠে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণের সাড়ে চার বছর পর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকালে ওবায়দুল কাদের দিনাজপুর গোর-এ শহীদ ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সে সময় তিনি বলেন, এ দেশে ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো নির্বাচন আর হতে দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু ভোট হবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতোই এ দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শেখ হাসিনা নির্বাচনের সময় রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। সে সময় একটা নিরপেক্ষ ভোট হবে। নির্বাচনে সব দায়িত্ব থাকবে নির্বাচন কমিশনের ওপর। তারা স্বচ্ছভাবে নির্বাচন করবে। ’ দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহ্মুদ।

জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, পলাশীর ষড়যন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে মীরজাফর খন্দকার মোশতাকের প্রধান সেনাপতি জিয়াউর রহমানের বিশ্বাসঘাতকতায় পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। সেদিন ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেলকেও তারা ছাড় দেয়নি। কারবালায়ও নারী-শিশু হত্যা হয়নি। অথচ পঁচাত্তরে সেদিন শিশু, নারী, এমনকি অন্তঃসত্ত্বা নারীকেও হত্যা করা হয়েছিল। পঁচাত্তরের পর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ, জয় বাংলা, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার আদর্শ—সব কিছুই নিষিদ্ধের হোতা ছিলেন জিয়াউর রহমান।

তিনি আরো বলেন, সেই জিয়াউর রহমানের সন্তান তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে গ্রেনেড হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হাওয়া ভবন থেকে। বিদেশে অর্থ পাচারকারী তারেক রহমানের কত টাকা আছে কেউ জানে না। সেই অর্থ পাচারকারী তারেক রহমানই এখন মির্জা ফখরুলের নেতা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণকে বলি, তারেক রহমান থেকে সাবধান থাকুন। ’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল বলেছেন, ১০ তারিখে নাকি বাঁশিতে ফুঁ দেবেন। অভ্যুত্থান শুরু হয়ে যাবে। অভ্যুত্থানে এই সরকারের নাকি পতন হবে। আপনাদের মনে রাখা দরকার, জার্মানির হ্যামেলিনের সেই বংশীবাদক একদিন শহরের সব শিশুকে বোকা বানিয়ে পাহাড়ে নিয়ে আটকে রেখেছিল। ফখরুল-খালেদা জিয়া হ্যামেলিনের ডাকাতিয়া বাঁশি ফুঁ দিয়ে কি ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জনগণকে নদীতে ডুবিয়ে রাখবেন, নাকি কোনো পাহাড়ে নিয়ে আটকে রাখবেন? এসব তাঁদের প্রতারণা। দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানাতে চান তাঁরা। ’

সম্মেলনের উদ্বোধক আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাত কেটেছে, পা কেটেছে। ভাইয়ের সামনে তারা বোনকে ধর্ষণ করেছে। মায়ের সামনে মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। নাবালক শিশু পর্যন্ত তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তাদের অত্যাচার, নির্যাতন ও নিষ্পেষণে সেদিন বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করা আমাদের মহা অপরাধ ছিল। তারা আমাদের জেলে পুরেছে। যারা ৭ই মার্চের ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে চায়, তারা আবার আমাদের গণতন্ত্র শেখায়। যারা এই দেশকে আবার হাওয়া ভবনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়, তারা আমাদের গণতন্ত্র শেখায়। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশে ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমাদের কোনো বাধাই আটকে রাখতে পারবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি ও শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি, রেমন্ড আরেং, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম আজাদ এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাফফর হোসেন এমপি, বেগম হোসনে আরা এমপি, জামালপুর পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ। সম্মেলন সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী।

এর আগে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে পরিবহন শ্রমিকদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ডিসেম্বরে ঢাকায় বিএনপির সমাবেশের আগে ও পরে আপনারা পরিবহন ধর্মঘট দেবেন না। কিন্তু তার পরও তারা (বিএনপি) তিন দিন আগে থেকেই হাঁড়ি-পাতিল ও মশার কয়েল নিয়ে অবস্থান নেবে। ’

জামালপুর জেলা কমিটির সভাপতি বাকী বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার চন্দ : পরে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নতুন কমিটির শীর্ষ তিনটি পদে তিন নেতার নাম ঘোষণা করেন। কমিটিতে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহকে সভাপতি, ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীকে সহসভাপতি ও বিজন কুমার চন্দকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি ফিজার, সাধারণ সম্পাদক মিতা : দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আলতাফুজ্জামান মিতা। গতকাল বিকেলে কাউন্সিল শেষে এই ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। সহসভাপতি করা হয়েছে আজিজুল ইমাম চৌধুরী, তৌহিদুল হক সরকার ও শাহ ইয়াজদান মার্শালকে। যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে ফারুকুজ্জামান চৌধুরী মাইকেলের নাম ঘোষণা করা হয়। রমেশ চন্দ্র সেন জানান, ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com