রবিবার, ২৩ Jun ২০২৪, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

বাজেটের মূলনীতি হোক মূল্যস্ফীতি কমিয়ে মানুষের জীবন সহজ করা: অর্থনীতিবিদদের অভিমত

মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা আগামী বাজেটের সবচেয়ে বড় মাথা ব্যথার কারণ হবে। তাই, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘœ জীবনচলার বিষয়টি অবশ্য অগ্রাধিকারের দাবি রাখবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কোভিড পরবর্তী এই সময়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের মূলনীতি হিসেবে দেখা উচিত। দেশের শীর্ষস্থানীয় তিন অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-র সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বাসসের কাছে এমন অভিমত তুলে ধরেছেন।
আগামী ১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন। এটি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষ বাজেট।
ড. আতিউর রহমান বলেন, আগের দু’টি জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনার সময়ই আমরা বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। ২০২১-২২-এর বাজেট যখন মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছিল তখন মনোযোগের কেন্দ্রে ছিল করোনাজনিত সংকট থেকে পুনরুদ্ধারের নীতিকৌশল। তার পরের বছরের বাজেটে ভাবতে হয়েছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে। এবার, অর্থাৎ আসছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের সময়ও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অভাবনীয় মূল্যস্ফীতিসহ অন্যান্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা মাথায় রাখতে হচ্ছে বাজেট প্রণেতাদের।
তিনি মনে করেন, মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা আগামী বাজেটের সবচেয়ে বড় মাথা ব্যথার কারণ হবে। তাই, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘœ জীবনচলার বিষয়টি অবশ্য অগ্রাধিকারের দাবি রাখবে। আসন্ন বাজেটকে তাই একাধারে খুবই সতর্কতার সঙ্গে প্রণয়ন করতে হবে, অন্যদিকে নয়া পথের সন্ধান দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে শেষ বাজেট হতে যাচ্ছে এবারেরটি। তাছাড়া, আইএমএফের কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট বেশকিছু শর্তপূরণের বাড়তি চাপও রয়েছে। সার্বিক বিচারে নিছক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য একটি জাতীয় মনস্তাত্ত্বিক দলিল হিসাবে এবারের বাজেটটি আলাদা তাৎপর্যের দাবিদার। বিশেষ করে ঊর্ধ্বমুখী দ্রব্য ও সেবা মূল্য পরিস্থিতির মাঝে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বাড়তি রাজস্ব কী করে সমাবেশ করা যাবে নীতি-নির্ধারকদের সেই দুশ্চিন্তার কথাটি নিশ্চয় উপেক্ষা করার মতো নয়। এজন্য বাড়তি করক্ষেত্র সন্ধান এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে করছাড়ের সুযোগ সংকুচিত করতেই হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com