বুধবার, ১০ Jun ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

আন্দোলন আরও কঠোর করার পরিকল্পনা বিএনপির

চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন সফলে মরিয়া হয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। দেড় দশকের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ও এর মিত্ররা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এবার আন্দোলন সফল ছাড়া বিকল্প ভাবছে না। ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ‘ছক’ সাজানো হচ্ছে। পাঁচ দফা অবরোধ কর্মসূচির পর রোববার থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। যা মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত চলবে। বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে সমমনা গণতন্ত্রমঞ্চ, এলডিপি, গণফোরাম, গণ অধিকার পরিষদ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট পৃথকভাবে ৪৮ ঘণ্টার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। যুগপৎ আন্দোলনে না থাকলেও একই দাবিতে জামায়াতে ইসলামীও ওই কর্মসূচি দিয়েছে।

সূত্র মতে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এবার সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বিএনপি। দাবি বাস্তবায়নে একটানা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে চাইছে দলের হাইকমান্ড। পর্যায়ক্রমে হরতাল-অবরোধের পর অসহযোগ আন্দোলনে যাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। সেক্ষেত্রে আন্দোলনে দুর্বল জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আন্দোলনে গতির সৃষ্টি করতে চান নেতারা।

জানা গেছে, চলমান বৈরী পরিস্থিতিতেও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের একদফায় অনড় বিএনপি। রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দাবি আদায় করতে চায় দলটি। গত কয়েকদিন ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সিরিজ বৈঠকে একতরফা তফসিল ঘোষণার বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে শিগগিরই অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন হবে জানিয়ে নেতাকর্মীদের হতাশ না হয়ে মাঠে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, সারা দেশে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সাধ্যমতো রাজপথে থাকার চেষ্টা করলেও দলের কেন্দ্রীয় উদাসীন মনোভাবের বিএনপিতে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে এবার সবাইকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে নিষ্ক্রিয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের নেতা যাদের চলমান আন্দোলনে পাওয়া যাচ্ছে না তাদের বিষয়ে কঠোর হওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। পদে থাকা অবস্থায় সক্রিয় নেতাদের ভারপ্রাপ্ত করে নিষ্ক্রিয়দের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। এরই মধ্যে আন্দোলনে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের রাজপথে নামতে হাইকমান্ড কঠোর বার্তা দিয়েছেন। ঢিলেঢালা কর্মসূচির ধাপ পেরিয়ে এবার কঠোরভাবে মাঠে থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে ধরনের প্রস্তুতিও গ্রহণ করছেন নেতাকর্মীরা। দলের পদধারী নেতাকর্মী ছাড়াও সমর্থক শ্রেণিকে মাঠে নামানোর কৌশলও রয়েছে দলটির।

তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির করণীয় প্রসঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘গণদাবি আদায়ে বিএনপি আন্দোলনে আছে এবং থাকবে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের একাধিক উদাহরণ আমরা দেখেছি। এমনকি তফসিল ঘোষণার পর একটি নির্বাচন সম্পূর্ণ বাতিলেরও উদাহরণ দেখেছি। স্পষ্টতই বাংলাদেশে রাজনীতি এবং আসন্ন নির্বাচন উভয়ই এখনো সম্পূর্ণ তরল অবস্থায় রয়েছে। সময়ই বলে দেবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র কোন দিকে যাচ্ছে।’

একই বিষয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির লড়াই হচ্ছে জনগণের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। বিএনপির শান্তিপূর্ণ হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করার জন্য জনগণ আজকে রাস্তায় নেমে এসেছে। এই আধিপত্যবাদী স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের বিজয় হবেই। জনগণ এখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ অক্টোবর নয়া পল্টনে বিএনপির ‘শান্তিপূর্ণ’ মহাসমাবেশ পুলিশ পণ্ড করে দেওয়ার পর থেকে বিএনপিসহ সমমনা জোটগুলো ‘কঠোর’ কর্মসূচিতে যায়। ২৮ অক্টোবরের ঘটনার পর দিন সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে তারা। এরপর শুরু হয় অবরোধ কর্মসূচি। প্রথম দফা ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিন, দ্বিতীয় দফায় ৫ নভেম্বর থেকে ৪৮ ঘণ্টা, তৃতীয় দফা ৮ নভেম্বর থেকে ৪৮ ঘণ্টা, চতুর্থ দফায় ১২ নভেম্বর থেকে ৪৮ ঘণ্টা এবং পঞ্চম দফায় ১৫ নভেম্বর থেকে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপিসহ সমমনা দল ও জোট।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com