শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
প্রতীক বরাদ্দের আগে ভোট চাওয়ার অভিযোগে ঢাকাই সিনেমার নায়িকা মাহিয়া মাহিকে শোকজ করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। আগামী রোববার সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে তাকে।
আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়েছেন মাহিমা মাহি।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শুক্রবার তাকে শোকজ পাঠান নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও রাজশাহীর জেলা ও দায়রা জজ, ২য় আদালত এর বিচারক মো. আবু সাঈদ।
কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৬(ঘ) ও বিধি ১২ লঙ্ঘনের দায়ে আপনার বিরুদ্ধে কেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না তৎমর্মে নি¤œ স্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে আগামী রোববার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য আপনাকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
মাহিকে পাঠানো নোটিশে ১৪ ডিসেম্বর ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট চাচ্ছেন মাহি’ শিরোনামের এক সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। এছাড়াও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির নিকট গোচরীভ‚ত হয়েছে যে, আপনি গত বৃহস্পতিবার দুপুর হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে প্রতীক বরাদ্দ করার আগেই গোদাগাড়ী উপজেলার চরআযারিয়াদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক জনসমাগম করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন এবং ভোটারদের কাছে ভোট চান।
নোটিশে আরো বলা হয়েছে, আপনার উক্ত আচরণের মাধ্যমে আপনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি ১২ লঙ্ঘন করেছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ তুলে ধরে আচরণবিধির বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই মাহিমা মাহি ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে দিনি বলেন, মূলত গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাঢ়দহ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম আমি।
কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, এটি বিচ্ছিন্ন একটি গ্রাম। সেখানের কেউ আমাকে চেনে না। আমি তাদের সঙ্গে পরিচিত হতেই সেখানে গিয়েছিলাম। তবে সেখানে গিয়ে আমি কোনো ভোট চায়নি।
মাহি যোগ করেন, আমি যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট চাইব আমারতো কোনো প্রতীকই নেই। আমি কীভাবে ভোট চাইব?
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। মনোনয়পত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়ে যান তিনি। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হয়েছেন তিনবারের এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মাহিমা মাহি।
এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী শামসুদ্দীন মন্ডল, এনপিপির নুরুন্নেসা, বিএনএমের শামসুজ্জোহা বাবু, তৃণমূল বিএনপির মনোনিত প্রার্থী জামাল খান দুদু, বিএনএফের আল-সাআদ ও মুক্তিজোটের প্রার্থী হয়েছেন বশির আহমেদ।