শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন

গণকবরে ছেয়ে গেছে গাজার উন্মুক্ত স্থান

অব্যাহত ইসরায়েলি বিমান হামলায় মুখে অস্থায়ী গণকবরের দিকে ঝুঁকছে গাজার পরিবারগুলো। স্বজনদের সমাহিত করতে কাছাকাছি খোলা জায়গা, এমনকি সড়ক বেছে নিচ্ছেন তারা। খবর আনাদোলু।

সংবাদ সংস্থাটিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনিরা বলেছেন, মানবিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা না হওয়া বা হামলা বন্ধ না হওয়ায় অস্থায়ী কবরে প্রিয়জনদের সমাহিত করছেন তারা। আশা করছেন, পরবর্তীতে সরকারি কবরস্থানে স্থানান্তরিত হবে দেহাবশেষ।

ইউরো-মেডিটারেনিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আবদু জানান, গাজা উপত্যকায় ১২০টিরও বেশি অস্থায়ী গণকবর নথিভুক্ত করেছেন তারা।

আরেক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছিলেন, সংঘাতের আগে ব্যবহৃত কবরস্থানে প্রবেশের অসুবিধার কারণে স্থানীয়রা অস্থায়ী গণকবরের জন্য বেছে নিচ্ছেন। যার আওতা থেকে বাদ পড়েনি আবাসিক এলাকা, বাড়ির উঠান, রাস্তা, অনুষ্ঠান হল ও স্টেডিয়াম।

তিনি বলেন, আমরা ১২০টিরও বেশি অস্থায়ী গণকবর নথিভুক্ত করেছি। যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তিন বা তার বেশি ব্যক্তিকে সমাহিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব কবর বেছে নেয়া ছাড়া ভুক্তভোগীদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। গত নভেম্বরে অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্স কবরস্থানে পরিণত হয়েছিল। এ সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে কয়েক ডজন নিহত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়। এমনকি মরদেহ পচে যাওয়ার পরও আনুষ্ঠানিক গোরস্থানে নেয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের একটি বিবৃতি অনুসারে, গত ১২ নভেম্বর ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১০০ ফিলিস্তিনিকে আল-শিফার মেডিকেল টিম হাসপাতালে সমাহিত করে। একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয় আল-কুদস হাসপাতাল ও ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতাল।

উত্তর গাজার জাবালিয়ায় কর্মরত আল জাজিরা সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ জানান, বাধ্য হয়ে গত ১১ ডিসেম্বর বাবা জামাল আল-শরীফকে শরণার্থী শিবিরের স্কুলের উঠানে কবর দিয়েছেন। অব্যাহত গোলাগুলির কারণে ক্যাম্পের মূল কবরস্থানে পৌঁছাতে পারেননি তারা।

গত ৯ ডিসেম্বরে ক্যাম্পের বাজার ও গলিতে গণকবর তৈরির খবর দেয় আনদোলু। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজার রাস্তার দুই পাশের ঘাসে ঢাকা জায়গাগুলো কবর দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

গাজার স্থানীয় সাংবাদিক আদহাম আল-শরীফ বলেন, নিহতদের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। আগে দেয়া কবরের আশপাশে জায়গা না থাকায় তাদের নতুন নতুন স্থানে দাফন করা হচ্ছে।

সম্প্রতি আল-দারাজ এলাকায় একটি খালি জমি খুঁজে পেয়ে ১২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে কবরস্থ করা হয়। জায়গাটির আয়তন ৫০০ বর্গ মিটারের বেশি নয়।

ওই সাংবাদিক জানান, কবরস্থানে পরিণত হওয়া জায়গাগুলোও হামলা থেকে রেহাই পায়নি। সেনাবাহিনী একটি আবাসিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, যার ধ্বংসাবশেষ কবরের ওপর এসে পড়ে।

এদিকে কিছু মরদেহ কবর দেয়ারও উপায় নেই। ধ্বংসস্তূপ থেকে দেহগুলো উদ্ধারের কোনো আশা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেছেন, উপত্যকার দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর লক্ষ্য গাজার আবাসিক এলাকাগুলো। সীমিত সামর্থ্যের কারণে এসব হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার প্রক্রিয়া চালানো কঠিন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com