বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন

এক বছরে রেলের লোকসান ১৫২৪ কোটি টাকা

২০২২-২৩ অর্থবছরে রেলের আয় ছিল এক হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। আর ব্যয় তিন হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে রেলের মোট লোকসান হয় এক হাজার ৫২৪ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ব্যয়ের মধ্যে রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া রেল পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী-আরএনবি, স্কুল, হাসপাতালের ব্যয় বাড়ায় রেলের ব্যয় বেড়েছে।

মন্ত্রী বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেনের দৈনিক গড় আয় সাড়ে তিন লাখ টাকা, সেখানে একটি মালবাহী ট্রেনের গড় আয় প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা। তবে ৩৫০টির অধিক যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করলেও মালবাহী ট্রেন মাত্র ২০-২৫টি চলাচল করে। ফলে রেলের আয় কম হচ্ছে।

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪৩টি জেলায় রেল সংযোগ রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাকি ২১টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করা প্রক্রিয়াধীন।

অপর সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, রেলওয়ে একটি সেবামূলক সংস্থা। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯৯টি নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এডিপিতে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২৫টি বিনিয়োগ প্রকল্প এবং তিনটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প অর্থাৎ মোট ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান।

গত এক যুগে সরকার দেশে ৯৪৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ, ৩৪০ দশমিক ১৭ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর, এক হাজার ৩৯১ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেললাইন পুনর্র্নিমাণ, ১৪৮টি নতুন স্টেশন বিল্ডিং নির্মাণ, ২৩৮টি স্টেশন বিল্ডিং পুনর্র্নিমাণ, এক হাজার ৬২টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ, ৭৯৪টি রেলসেতু পুনর্র্নিমাণ, ১৩৭টি স্টেশনে সিগন্যালিং ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে বলে জানান রেলমন্ত্রী।

তিনি বলেন, রেলের সেবা আরও আধুনিক করার জন্য বর্তমান সরকারের পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রেলের সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন রেললাইন নির্মাণ, রোলিং স্টক সংকট নিরসন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে নতুন রেল সংযোগ স্থাপন, সিগনালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন ট্রেন চালু করা, রেল ডিজিটালাইজেশন, এ ছাড়া ২৮টি নতুন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com