বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

আগে ব্যাট করে ১৬৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। পরে বোলিংয়ে শুরু থেকেই অবশ্য জিম্বাবুয়েকে চাপে রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ দিকে জনাথন ক্যাম্পাবল ও ফারাজ আকরাম প্রতিআক্রমণে ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দিয়েছিলেন। একটা সময় জয়ের সম্ভবনাও জেগেছিল জিম্বাবুয়ের। শেষ দিকের সমীকরণটা অবশ্য মিলাতে পারেননি সফরকারীরা।

সব মিলিয়ে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ১৬৫ রানের জবাব দিতে নেমে ১৫৬ রানে  থেমেছে জিম্বাবুয়ে। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচও জিতেছিল বাংলাদেশ। ফলে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ফেলল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

মঙ্গলবার (৭ মে) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১৬৫ রানের পুঁজি নিয়ে বোলিং করতে নেমে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত বোলিংই করছিলেন। তরুণ পেসার শরিফুল ইসলামকে বসিয়ে আরেক তরুণ তানজিম হাসান সাকিবকে একাদশে জায়গা দেওয়া হয়েছে। তাসকিন আহমেদের সঙ্গে নতুন বলে বেশ সাবলীল বোলিংই করেছেন সাকিব।

শেখ মাহেদির বদলে একাদশে জায়গা পাওয়া আরেক স্পিনার তানভির আহমেদও বেশ ভালো বোলিং করেছেন। আরেক পেসার সাইফউদ্দিন আজও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট এনে দিয়েছেন। সাইফউদ্দিনের হাত ধরেই ইনিংসের প্রথম উইকেটটা পেয়েছে বাংলাদেশ। শুরুতে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট পেয়েছে বাংলাদেশ।

তবে অন্যদের ব্যর্থতার মধ্যে জিম্বাবুয়ান ওপেনার মারুমানি বেশ দারুণ ব্যাটিং করছিলেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেকদিন পর বল হাতে নিয়েই মারুমানিকে যখন ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে ফেরালেন জিম্বাবুয়ের দলীয় রান তখন ৬৬। খানিক বাদে ৭৩/৭ হয়ে পরে জিম্বাবুয়ে।

সেখান থেকে জনাথন ক্যাম্পাবল ও  তরুণ মিডিয়াম পেসার ফারাজ আকরামের পাল্টা আক্রমণ। লেগস্পিনার রিশাদ হাসান ও দারুণ বোলিং করতে থাকা সাইফউদ্দিনকে আক্রমণ করেন দুজন। ক্যাম্পাবল মাত্র ১০ বল খেলে ২টি করে চার-ছয়ে ২১ রান করেন। ফারাজ ১৯ বলে ২টি করে চার-ছয়ে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। এই দুজনের ব্যাটে জয়ের স্বপ্নও দেখছিল সফরকারীরা। শেষের হিসেবটা অবশ্য মেলানো সম্ভব হয়নি।

২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রানে থেমেছে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ৪২ রান খরচায় তিন উইকেট নিয়েছেন। রিশাদ হোসেন ৩৮ রান খরচায় দুই উইকেট নিয়েছেন। এছাড় মাহমুদউল্লাহ, তাসকিন আহমেদ, তানভির ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিব একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে না পারলেও উইকেটে ছিলেন বেশ অনেকক্ষণ। কিন্তু তাসজিদও যখন ২২ বলে ২১ রান করে ফিরলেন তখন বিপদেই পরে যায় স্বাগতিকরা। জাকের আলীকে নিয়ে সেই বিপদ কাটিয়েছেন তাওহিদ হৃদয়।

উইকেটে গিয়ে শুরুতে সময় নিয়েছেন হৃদয়। তবে সেট হওয়ার পরও সহজাত ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলেছেন। বিপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করা জাকেরও তাকে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন। চতুর্থ উইকেটে ৫৮ বলের জুটিতে দুজন তুলেছেন ৮৭ রান। দুজন অবশ্য ফিরেছেন ১ বলের ব্যবধানে।

হৃদয় ৩৮ বল খেলে ৩টি চার ২টি ছয়ে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে সরাসরি বোল্ড হয়েছেন ব্যক্তিগত ৫৭ রানের মাথায়। এক বল পর জাকের আলীও মুজারাবানির বলে বোল্ড হয়েছেন ব্যক্তিগত ৪৪ রানের মাথায়। ৩৪ বলে ৩টি চার ২টি ছয়ে এই রান করেছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

মুজারাবানি ৪ ওভারে ১৪  রান খরচায় তিন উইকেট নিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com