২৫ রুটে ঝুঁকি নিয়ে চলছে নৌযান!

২৫ রুটে ঝুঁকি নিয়ে চলছে নৌযান!

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ভোলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার অধিকাংশ রুটে নদীর বুকে ডুবোচর জেগে লঞ্চ ও ফেরিসহ নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। নাব্য সংকটের কারণে ভোলা-ঢাকা, ভোলা-বরিশাল ও ভোলা-লক্ষ্মীপুরসহ অন্তত ২৫ রুটে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে নৌযান। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ভোলার লাখো মানুষ।

ভোলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের একমাত্র ও সহজ মাধ্যম নৌপথ। এখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী লঞ্চে করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু শীতের শুরুতেই নদীতে অসংখ্য ডুবোচর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্য যেতে পারছে না নৌযানগুলো।

লঞ্চ ও ফেরির মাস্টার ও সাধারণ যাত্রীরা জানায়, ডুবোচরের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই জোয়ার- ভাটার ওপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে নৌযানগুলোকে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের নৌপথ। এ অবস্থায় নৌপথের রক্ষণাবেক্ষণ ও সঠিক জায়গায় ড্রেজিংয়ের দাবি তোলেন ভুক্তভোগীরা।

ভোলার ব্রাদার্স নেভিগেশন কোম্পানির ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন জানায়, ঢাকা-ভোলা যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে নদীপথ। এই রুটে আটটি লঞ্চ চলাচল করে আসছে। কিন্তু নদীপথে নাব্য সংকটের কারণে প্রায় আটকে যাচ্ছে লঞ্চ। নির্ধারিত সময় লঞ্চ ছাড়লেও নাব্য সংকটের কারণে ভোলা খাল থেকে বের হতে সময় লেগে যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টা। নদীপথে এখন সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে নাব্যতা সংকট। শুধু ভোলা নয় জেলার ২৫ রুটের একই সমস্যা এখন নাব্য সংকট। ফলে লঞ্চগুলো নিয়মিত চলাচল করতে বিঘ্ন হচ্ছে। ফলে লঞ্চ মালিকরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যাত্রীরাও তেমনি হয়রানি হচ্ছে। অনেক সময় যাত্রীদের সঙ্গে লঞ্চের স্টাফদের মারামারি হচ্ছে। ভোলার খেয়াঘাট রুটটি সচল রাখতে হলে সঠিকভাবে সঠিক জায়গার ড্রেজিং করতে হবে। তা না হলে যে কোনো সময় এই রুটটি বন্ধ হয়ে যাবে।

একই সঙ্গে বয়া ও মার্কার বাতি না থাকায় ঘন কুয়াশার সময়ে লঞ্চ চালাতে বিপাকে পড়তে হয়। তাই বিভিন্ন পয়েন্টে বয়া বাতি স্থাপনের দাবি লঞ্চের মাস্টারদের।

লঞ্চের সুপারভাইজাররা জানায়, ভোলা খাল, শ্রীপুর, ভেদুরিয়া, কালীগঞ্জ, দারগার খাল, লালমোহন কালাইয়া ও মনপুরার বেশ কয়েকটি পয়েন্টসহ অভ্যন্তরীণ রুটে নদীতে নাব্য সংকটের কারণে বিড়ম্বনা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব পয়েন্টে যাতায়াতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তিন-চার ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে। অভিযোগ রয়েছে, সঠিকভাবে সঠিক জায়গায় ড্রেজিং হচ্ছে না বলেই প্রতিদিন আটকে যাচ্ছে ঢাকাগামী লঞ্চ। ফলে ভোলা-ঢাকা রুটে যাত্রী সংখ্যা দিনে দিনে কমতে শুরু করেছে। এছাড়াও নৌপথের অনেক পয়েন্টেই নেই বয়া বাতি। অন্যদিকে নদীতে নাব্য সংকটের কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এ কারণে গন্তব্য যেতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। তাই এ নৌপথে ড্রেজিং জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে ভোলা নৌবন্দরের (বিআইডব্লিউটিএ) সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, এরই মধ্যে নৌপথে নাব্য বাড়াতে বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে। অচিরেই নদীপথে নাব্যতা স্বাভাবিক হবে।

প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশে পলি জমে ডুবোচরের সৃষ্টি হচ্ছে। এর বিপরীতে কমবেশি ড্রেজিং করছে বিআইডব্লিউটিএ। নৌপথে দ্রুত ড্রেজিং করে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

উল্লেখ্য, ভোলার ২৫ রুটে প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে অর্ধশতাধিক লঞ্চ চলাচল করছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন