বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার কৈমারী স্কুল এ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ খাঁনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা করে লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অধ্যক্ষের লাখ টাকা আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের লিখিত অভিযোগ নীলফামারী জেলা প্রশাসক, জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে জমা দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

অভিযোগকারীদের থেকে জানা যায়, ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন অর্ধশতাধিক স্থানীয় জন প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী অভিভাবক, স্কুল ও কলেজ শিক্ষক, সচেতন সাধারণ মানুষ।

লিখিত অভিযোগে তারা বলেছেন, আব্দুর রউফ খাঁন অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদানের পর থেকে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কলেজের গাছ কেটে আত্মসাৎ করেছেন। রশিদ বই ছাড়া কলেজের জায়গার দোকান মালিকদের থেকে অর্থ আদায় করেছেন, কলেজ ভবন সংস্কারের নামে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও অধ্যক্ষ বিভিন্ন জাতীয় দিবসের নামে ও অন্যান্য খরচ দেখিয়ে মিথ্যা ভাউচার বানিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অভিযোগকারী কৈমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কৈমারী স্কুল এ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি কহিনুজামান লিটন বলেন, কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ গত ২০১৬ সালের পহেলা জানুয়ারি অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদান করেন । কলেজটিতে বর্তমানে কোন নির্বাচিত কমিটি নেই। আব্দুর রউফ আসার পর থেকে আহবায়ক কমিটি দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে পদাধিকার বলে আহবায়ক কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার । তিনিও উপজেলা পরিষদ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া একটা কলেজের খুঁটিনাটি সবকিছু দেখাও ইউএনওর পক্ষে সম্ভব হয় না। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কলেজের প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ।

লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষরকারী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কৈমারী ইউপির ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য রশিদুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ কলেজের দোকান ঘর মেরামত বাবদ তিন লক্ষ টাকা ব্যয় দেখিয়ে নামমাত্র কাজ করে সব টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কলেজের কয়েকটি পুরনো গাছ কাজ নিজ ক্ষমতা বলে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে সব টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষরকারী মামুনুর রশিদ নামে আরও এক অভিভাবক বলেন, কলেজের জায়গায় ১১ টি দোকান আছে । সেই দোকান মালিকের কাছে কোন প্রকার রশিদ ছাড়ায় ১০ থেকে ২০ হাজার করে টাকা জামানতের কথা বলে আদায় করেছে।

কৈমারী স্কুল এ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক জেন্নামুল ইসলাম বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ কলেজের ফার্নিচার ক্রয় করার নাম করে ১ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং ২৬ শে মার্চ মহান বিজয় দিবস পালনের জন্য গত তিন বছরে ২ লাখ ৩১ হাজার ১৭৩ টাকা ব্যয় দেখিয়েছেন। যা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত।

জলঢাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে। তবে কলেজ অধ্যক্ষ কলেজের বিভিন্ন খাতে গত তিন বছরে ৭ লক্ষ টাকার তছরুপ ছিল। যা প্রাথমিক তদন্তে বেড়িয়ে এসেছে । সে টাকা কলেজ ফান্ডে সমন্বয় করার নির্দেশ দিলে চলতি বছর ২ জানুয়ারি কৈমারী জনতা ব্যাংক শাখার কলেজ ফান্ডে ৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। অবশিষ্ট টাকা ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্নাঙ্গ তদন্ত শেষ হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় অবগত আছেন। তিনিও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

কৈমারী স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ খাঁন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠানের একটি পুরাতন ভবন মেরামতের জন্য কলেজের ফান্ড থেকে ৪ লক্ষ ২৪ হাজার ৯শত ৪০ টাকা উত্তোলন করেছিলাম । বহিরাগতদের কারণে সেই কাজ বন্ধ রেখেছি। পরে সেই টাকা গত ২ জানুয়ারি কলেজ ফান্ডে জমা করেছি। তিনি আরও বলেন, এক‌টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য গভর্নিং বডি থাকে, সে বডির সচিব আমি। এখানে সভাপতি যদি কোনো কাগজে স্বাক্ষর না করেন, তাহলে আমি একাই কিছু করতে পারবো না। বিষয়টা হয়তো অনেকে জানেন না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজাউদ্দৌলা বলেন, কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ৭ লাখ টাকা তছরুপের রিপোর্ট পাওয়া গেছে । এ বিষয়ে অধ্যক্ষকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে, পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com