শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩৬ অপরাহ্ন

বহিষ্কৃতদের নাম প্রকাশ করা না হলে প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলবে: ডাকসু

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত ৬৩ শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশে আল্টিমেটাম দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য তানভীর হাসান সৈকত।

সোমবার দুপুরে প্রক্টর অফিসে গিয়ে তিনি বহিষ্কৃতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করার জন্য পাঁচ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন। না হলে প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলানোর হুশিয়ারী দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় অবৈধভাবে ভর্তি হওয়া ৬৩ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসার পরেও ওই শিক্ষার্থীদের পরিচয় প্রকাশ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের বৈঠকে ৬৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করা হয়। সে সময় প্রক্টর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বহিষ্কারাদেশ সিন্ডিকেটে চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের পর তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হবে। গত ৩০ জানুয়ারি সিন্ডিকেট থেকে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার পরও বহিষ্কৃতদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পরিচয় প্রকাশের ব্যাপারে উপাচার্য ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলেও প্রক্টর বহিষ্কৃতদের পরিচয় প্রকাশে কালক্ষেপন করে যাচ্ছেন।

আল্টিমেটাম দেওয়ার সময় ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকত লিখিত বক্তব্য বলেন, গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তি জালিয়াতির কারণে ৬৩জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার করে। বহিষ্কৃতদের নাম প্রকাশে উপাচার্য প্রক্টরকে বলার পরেও তিনি বহিষ্কৃতের নাম প্রকাশ না করে যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন তাতে শিক্ষার্থীরা তাকে ধিক্কার জানিয়েছে। কোনোভাবেই প্রক্টরের মত দ্বায়িত্বশীল জায়গায় দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই ধরনের প্রতারণা কাম্য নয়। যার দায়ভার সম্পূর্ণ প্রক্টরের।

নাম প্রকাশ করা না হলে প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলানোরে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রক্টরের ভূমিকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সন্দেহের দানা বেঁধেছে এবং শিক্ষাথীরা সরিষার ভেতরে ভূত দেখতে পাচ্ছে। বহিষ্কৃতদের নাম প্রকাশ না করা ইতিমধ্যেই জালিয়াতদের রক্ষার কৌশল হিসেবে শিক্ষার্থীরা বুঝে গেছে। শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এই জালিয়াতির সঙ্গে প্রক্টর কোনোভাবে সম্পৃক্ত কিনা? আগামী ৫ দিনের মধ্যে বহিষ্কৃতদের নাম প্রকাশ করার মাধ্যমে সব প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে আরেকটি সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। অন্যথায়, প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলাতে বাধ্য হবে।

ডাকসু নেতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এগুলো কোনো অভিযোগ নয়, এগুলো কোনো শিক্ষার্থীর কাজ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, এগুলো প্রশাসনিকভাবে দেওয়া হচ্ছে।

কবে নাগাদ প্রকাশ করা হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এগুলো অন্য একটি শাখা থেকে করা হচ্ছে তো। তবে আমার কথা হয়েছে আজকেই খুব দ্রুত দিয়ে দেওয়ার জন্য, যত দ্রুত সম্ভব। তবে এই তালিকা গণমাধ্যমে কবে নাগাদ প্রকাশ করা হবে তা তিনি বলেননি।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com