শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ডিসি সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আরও তিনটি বর্ডার হাট স্থাপন ও বিজিবি-বিএসএফের যৌথ পেট্রোলিংয়ের (টহল) প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
এছাড়া গোমতী নদীর পানির অংশীদারিত্বের ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ত্রিপুরার আগরতলায় রাজ্য অতিথিশালায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে আখাউড়া-আগরতলা সীমান্ত চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে ফেরার পথে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ডিসি সম্মেলনে দুই দেশের সীমান্তে যে তিনটি জায়গায় বর্ডার হাটের প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো হল ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার জগৎরামপুর (বাংলাদেশের কুমিল্লা সীমান্ত), পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বামুটিয়া (বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত) ও ত্রিপুরার খোয়াই জেলার প্রহরমুড়া (বাংলাদেশের হবিগঞ্জ সীমান্ত)।
দুই দেশের সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাব চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ঢাকা ও দিল্লির সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হবে। সম্মেলনে গোমতী নদীর পানির অংশীদারিত্বের ব্যবস্থা, সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ যৌথ টহল জোরদার, অস্ত্র ও চোরাচালান, মাদক ও মানব পাচার, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বন্ধ, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও আলোর ব্যবস্থা করা, অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা ইস্যু, সংস্কৃতি বিনিময়, পতাকা বৈঠক জারি রাখা, সীমান্ত খুঁটি পরিদর্শন ও সংস্কার করা, নতুন সীমান্ত হাটের জায়গা চিহ্নিতকরণ, কমলাসাগর বর্ডার হাটের সমস্যা, আখাউড়া-আগরতলা আইসিপিতে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সফল আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মাণের কাজ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সীমান্ত হাটের তিনটি জায়গা ২৬ ফেব্রুয়ারি উভয় দেশের তরফে পরিদর্শন করা হবে।
বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের যৌথ জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে যোগ দিতে মঙ্গলবার ৪ জেলার ডিসিসহ ৩০ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ভারতের ত্রিপুরায় যায়।
সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর। কুমিল্লা জেলা ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও ভূমি জরিপ অধিদফতরের কর্মকর্তারা এ সম্মেলনে অংশ নেন।
অপরদিকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলে পশ্চিম জেলার জেলা প্রশাসক ড. মাহান্তে সন্দীপ এন’র নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন সিপাহিজলার জেলা প্রশাসক সিকে জামাতিয়া, খোয়াই জেলার জেলা প্রশাসক স্মিতা মলসহ জেলার পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নগরকন্ঠ.কম/এআর