শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : প্রশ্নপত্র কিনতে গিয়ে বিকাশে টাকা দিয়ে তারা প্রতারিত হয়েছিলেন ২০১৯ সালে। সেই থেকে তাদের মাথায় আসে তারাও প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে অর্থ আয় করবেন।
এসএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ও রেজাল্ট পরিবর্তন চক্রের সেই ৫ সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে র্যা্ব-১১।
বৃহস্পতিবার বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগরে র্যাপব সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যামব-১১-এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. রেজাউল হক।
এ সময় র্যা ব ১১-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাজমুল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে ভুয়া প্রশ্নপত্র প্রদান ও রেজাল্ট পরিবর্তনের নামে প্রতারণা করে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত থাকায় নরসিংদী জেলার বেলাবো থানার বিভিন্ন এলাকা হতে ৫ জন ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ও রেজাল্ট পরিবর্তনকারীকে হাতে-নাতে আটক করা হয়।
আটককৃতরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৭)। এ কারণে তাদের নাম প্রকাশ করেনি র্যাবব। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৫টি স্মার্ট ফোন উদ্ধার করা হয়।
র্যা ব জানায়, তারা সবাই নরসিংদীর বেলাবো থানা এলাকার বিভিন্ন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। তারা চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা আদায়ের জন্য ভিপি খান, প্রিন্স খান, আকতার খান, প্রিন্স নিলয়, মায়াবি পলক, রোহান চৌধুরী নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে। তারা এই সব আইডিতে চলমান এসএসসি পরীক্ষার সব বোর্ডের বিভিন্ন বিভাগের প্রশ্ন প্রদান ও রেজাল্ট পরিবর্তনের বিজ্ঞাপন দিয়ে পোস্ট দেয়।
এতে করে অনেক এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রলুব্ধ হয়ে তাদের সঙ্গে ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করে প্রশ্ন পাওয়ার আশায় বিকাশে টাকা প্রদান করে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইলে এ সংক্রান্ত প্রতারণার গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে বলে জানায় র্যাপব-১১।
অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে র্যামব আরও জানতে পারে, ইতিপূর্বে তারা সবাই নিজেদের ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার আশায় ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র প্রাপ্তির চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল। তখন তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষতঃ বিভিন্ন ফেসবুক আইডি এবং পেজ-এর প্রতি তারা লক্ষ্য রাখতে থাকে। কিন্তু তারা প্রত্যেকেই সেই সময়ে কোনোরূপ প্রশ্ন ফাঁস না হওয়ায় প্রশ্ন সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় এবং সব ক্ষেত্রেই বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়।
সেই সময় থেকেই তাদের মাথায় ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা বলে বিভিন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার মতো অপকর্মের চিন্তা জন্ম নেয়। সেই চিন্তা থেকেই তারা প্রশ্ন ফাঁস চক্রের প্রতারণার ফাঁদ সৃষ্টি করে ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আয় করে আসছিল বলে জানায় র্যা ব।
উল্লেখ্য, চলমান এসএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্ন ফাঁসের দায়ে র্যাআব ফোর্সেস এই পর্যন্ত ৩৫ জনকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে র্যা ব-১১ নারায়ণগঞ্জ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত প্রতারকের সংখ্যা ৭।
নগরকন্ঠ.কম/এআর