শুক্রবার, ১৭ Jul ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

ঢাকায় হাসপাতালে ফার্মাসিস্টের লাশ, দুই পরিচালকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : রাজধানীর ডেমরায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালকের রুমে ফার্মাসিস্ট মোবারক করিমের (২৬) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুইজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে ডেমরা থানায় নিহতের বড় ভাই মো. রুহুল আমিন রাজধানীর মাতুয়াইল মুসলিমনগর এলাকার ফ্রেন্ডশিপ স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুই পরিচালকের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

আসামিরা হলেন ওই হাসপাতাল ভবনেই বসবাসরত গাজীপুরের সদর থানার কাউতলি গ্রামের মৃত হাজী হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. জামাল হোসেন (৫২) ও যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মো. আক্তার হোসেন মামুন (৩৯)।

এদিকে ফার্মাসিস্ট হত্যার ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহতের পরিবার ও ডেমরা থানা পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত মোবারক করিম তার স্ত্রী রিতুসহ (২০) কদমতলী থানাধীন ১৪৬০ দক্ষিণ দনিয়াস্থ নতুন একে স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড মোড় এলাকার প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি অভিযুক্ত আসামি জামাল হোসেনের কাছে বেশ কিছু টাকা পাওনা ছিলেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে মোবারক গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টার দিকে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে পরিচালক জামালের কাছে আসেন।

পরে লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের ৩য় তলার ৭নং কক্ষে মোবারকের সঙ্গে আসামি জামাল হোসেন ও মো. আক্তার হোসেন মামুনের আলাপ হয়। এ দিন বিকাল থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত মোবারকের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার। এ দিকে পরের দিন শুক্রবার দুপুরে ওই কক্ষ থেকেই মোবারকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সূত্র আরও জানায়, মোবারককে ওই কক্ষে মারধর করা হয়েছে। কারণ তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ও বাম পায়ে ৩টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চামড়ার নিচ থেকে রক্ত জমাটের মতো দেখা গেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত মোবারক ভোলার লামোহন থানাধীন ধলিগৌর গ্রামের মো. সোলাইমানের ছেলে। এ বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত আসামিরা পলাতক থাকলেও দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। নিহতের দুই পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আর ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই এ মৃত্যুর আসল রহস্য বের হবে। এ বিষয়ে তদন্ত ও গ্রেফতার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com