বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : পাবনার বেড়া উপজেলায় প্রায় ছয় বছর আগে নির্মিত বড়শিলা থেকে নলভাঙা হয়ে খাকছাড়া পর্যন্ত সড়কটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কের কোথাও কোথাও বড়শিলা বিলের মধ্যে ডুবে থাকে। সংস্কারের অভাবে এলজিইডির আওতাধীন ভাঙাচোরা এই সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচলের আর উপায় নেই। জানা গেছে, বড়শিলা থেকে নলভাঙা হয়ে খাকছাড়া পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের পর উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামে যোগাযোগ করা গিয়েছিল। গত এক বছর ধরে বেহাল হওয়ায় এক সময়ের ব্যস্ত এই সড়ক পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। এলাকাবাসী এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বেড়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এক কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৩ সালে বড়শিলা-নলভাঙা-খাকছাড়া সড়কটি নির্মাণ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির বেশির ভাগ অংশই বিল এলাকার মধ্য দিয়ে চলে গেছে। এবারের বর্ষা ও বৃষ্টিতে সড়কের কয়েকটি স্থান প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে সেখানে একটি রিকশা-ভ্যান ছাড়া আর কোনো যানবাহন এমনকি লোকজনকেও চলাচল করতে দেখা যায়নি। যে রিকশা-ভ্যানটি চাকলা গ্রামের দিক থেকে এই সড়কে ঢুকেছিল বিলীন হওয়া একটি অংশ পার হতে না পেরে সেটি আবার চাকলায় ফিরে যায়।
ভ্যানটির চালক ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘আমি জানতাম সড়কটা ভাঙা হলিউ কোনোরকমে যাওয়া যায়। এখন না জাইন্যা এই পথে আইস্যা বিপদে পড়ছি। আর কখনো এই পথে আসবো না।’
খাকছাড়া গ্রামে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক হোসেন বলেন, ‘সড়কটি চালু হওয়ার পর আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ব্যাপক বেড়ে গিয়েছিল। বড়শিলা, নলভাঙা প্রভৃতি গ্রাম থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী এই সড়কে রিকশা-ভ্যানে চড়ে বিদ্যালয়ে আসত। সড়কটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ায় যানবাহনে দূরের কথা হেঁটেও শিক্ষার্থীদের আসার উপায় নেই। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।’
বড়শিলা গ্রামের কৃষক আবদুল ওহাব বলেন, ব্যস্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। এই সড়কে যাতায়াত কঠিন। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে দুর্ভোগে পড়তে হয়। গত এক বছর ধরে চলাচল অযোগ্য হয়ে আছে।
এলজিইডির বেড়া উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কদ্দুস বলেন, সড়কটি মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে অর্থ বরাদ্দের আশা করছি। অর্থ পাওয়া মাত্রই সড়কটি মেরামত করার কাজ শুরু হবে।
নগরকন্ঠ.কম/এআর