বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সংঘর্ষে নিহত একই পরিবারের তিন জনসহ চার জনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার সকালে পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জানাজা শেষে পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।
এর আগে সকাল সোয়া ৮টার দিকে নিহতদের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে গাজীনগরে পৌঁছায়। সেখানে স্বজনহারা ও গ্রামবাসীর গগনবিদারী আহাজারিতে এক হূদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। লাশ দেখতে বিভিন্ন বয়সি নারী-পুরুষ জড়ো হয় নিহতদের বাড়িতে। সর্বত্রই নেমে আসে শোকের ছায়া।
সকাল ৯টায় আলুটিলা বটতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রথম জানাজা এবং সকাল ১০টায় ইসলামপুর জামে মসজিদ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বটতলী কবরস্থানে মফিজ মিয়াকে, ইসলামপুর কবরস্থানে সাহাব মিয়া এবং তার দুই ছেলে আকবর আলী ও আহাম্মদ আলীকে দাফন করা হয়। এদিকে স্বামী ও দুই সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে স্ট্রোক করে মারা যাওয়া সাহাব মিয়ার স্ত্রী রঞ্জু বেগমকে ইসলামপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে ময়নাতদন্ত শেষে গত মঙ্গলবার রাতেই বরগুনার বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ বাসন্ডা গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয় বিজিবি সদস্য শাওন খানের মরদেহ।
স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর এবং জানাজার সময় মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মাটিরাঙ্গা সার্কেল) মো. খোরশেদ আলম, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম হুমায়ুন মোরশেদ খান, সাধারণ সম্পাদক সুবাস চাকমা, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার প্যানেল মেয়র আলাউদ্দিন লিটন ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এমরান হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
গত মঙ্গলবার নিজের বাগানের গাছ পরিবহনকে কেন্দ্র করে মাটিরাঙ্গার গাজীনগরে বিজিবি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিজিবির সদস্যরা গুলি করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান সাহাব মিয়া ও তার ছেলে মো. আকবর আলী। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিজিবি সদস্য শাওন, স্থানীয় বাসিন্দা আহাম্মদ আলী, মফিজ মিয়া ও হানিফ মিয়াকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে সেখানেই মারা যান বিজিবি সদস্য শাওন ও আহাম্মদ আলী। এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান মফিজ মিয়া। হানিফ মিয়া আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এখনো চিকিত্সাধীন।
নগরকন্ঠ.কম/এআর